শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

সমাজ সচেতনতামূলক নাটক বাল্যবিবাহ


গত 04/02/2020 আমার পূর্ণপানি জুনিয়র হাই স্কুলে সফলভাবে মঞ্চস্থ  হয়ে গেল আমার লেখা প্রথম নাটক... "বাল্যবিবাহ"। যে সকল ছাত্র ছাত্রী অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটিকে বাস্তব রূপ দিল, তাদেরকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানাই। তাদের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।


বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর ,স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী ভাতা দেওয়ার ফলে সমাজে  বাল্য বিবাহ  অনেকটা কমে এসেছে। তবুও সমাজে কোথাও প্রকাশ্যে,

আবার কোথাও লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই নাটকে মূলত আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..

👉প্রথমতঃ সমাজে ছেলেমেয়ে যে দুই সমান তার একটা বার্তা দেওয়া ।

👉দ্বিতীয়তঃ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে 

                  সচেতন করা ।

 👉তৃতীয়তঃ মেয়েদের লড়াক্কু  মনোভাব তৈরি করা ।

 আপনারা নিশ্চয় জানেন যে,বাল্য বিবাহ আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ। মেয়ের বয়স 18 বছর না হলে আপনারা কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন  না।বাল্যবিবাহ  শুধু একটি মেয়ের উপর নয়, এটি সমাজ তথা দেশের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।তাই এ ব্যাপারে  আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। 




নাটক: বাল্যবিবাহ
লেখক: জামাল আনসারী
এই নাটকের ভিডিওটি দেখতে চাইলে youtube এর নীচের লিঙ্কটি খুলুন...
👇👇👇







শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

সামাজিক নাটক বাল্যবিবাহ

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর ,স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী ভাতা দেওয়ার ফলে সমাজে  বাল্য বিবাহ  অনেকটা কমে এসেছে। তবুও সমাজে কোথাও প্রকাশ্যে,
আবার কোথাও লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই নাটকে মূলত আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..
👉প্রথমতঃ সমাজে ছেলেমেয়ে যে দুই সমান তার একটা বার্তা দেওয়া ।
👉দ্বিতীয়তঃ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে 
                  সচেতন করা ।
 👉তৃতীয়তঃ মেয়েদের লড়াক্কু  মনোভাব তৈরি করা ।


 আপনারা নিশ্চয় জানেন যে,বাল্য বিবাহ আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ। মেয়ের বয়স 18 বছর না হলে আপনারা কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন  না।বাল্যবিবাহ  শুধু একটি মেয়ের উপর নয়, এটি সমাজ তথা দেশের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।তাই এ ব্যাপারে  আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। 


নাটক: বাল্যবিবাহ
লেখক: জামাল আনসারী
এই নাটকের pdf ডাউনলোড করতে নীচের লিঙ্কটি খুলুন
👇👇
সামাজিক নাটক: বাল্যবিবাহ

মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

ভোগবাদের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের দিকে ক্রমশঃ ধাবমান। মানুষের গগনচুম্বী লোভের কাছে মানবতা বারে বারে পরাজিত। দয়া, মায়া সাহায্য-সহযোগিতা সহানুভূতি সহমর্মিতা ইত্যাদি কোমল অনুভূতি গুলি ধীরে ধীরে লুপ্তপ্রায়।মানুষ পশুর মতো হিংস্র হয়ে উঠছে। আক্রমনমুখি হয়ে উঠছে। নিজের বিবেক বন্ধক দিয়ে মানুষ অন্যায় কাজে নিমগ্ন।
এই E book এর কিছু কিছু কবিতা বছর দুয়েক আগের লেখা। ছেঁড়া খাতার মধ্যে বন্দি হয়ে ঘুমিয়ে ছিল।তাই এই E-Book তৈরি করে কবিতাগুলোর নিদ্রা ভঙ্গ করিলাম। এই e-book এর কবিতাগুলি কোনো পাঠক পড়ার পর যদি তার মনে বিন্দুমাত্র ভালো লাগে এবং সমাজ সচেতনার বিন্দুমাত্র আভাস পরিলক্ষিত হয়। তবেই আমার এই কঠিন পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করব।



কাব্যগ্রন্থ : মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
লেখক : জামাল আনসারী
এই কাব্যগ্রন্থের pdf ডাউনলোড করতে নীচের
 লিঙ্কে ক্লিক করুন👇

মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে




বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

ধর্মের গোলকধাঁধা


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে’।
মানুষের যথার্থ ধর্ম কি? সাধারণ মানুষ সামাজিক আচার-আচরণ, নিয়ম রীতি  পালন করাকেই ধর্ম বলে জানে ও মানে।  ঢাক ঢোল বাজিয়ে , বাইক লাগিয়ে উচ্চস্বরে সেই আওয়াজকে মানুষের কর্ন মূলে প্রবেশ করানোটাই ধর্ম নয়। 
 মানুষের ধর্ম একান্তই তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যাপার।তা কখনোই লোককে ডেকে হেঁকে দেখানোর সামগ্রী নয়। ধর্ম সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা গোলকধাঁধা র মতো।আগুনের ধর্ম যেমন দহন, তরবারির ধর্ম যেমন তীক্ষতা, তেমনি মানুষের ধর্ম মানবতা।আমার এই কবিতাগুলি যদি কোনো পাঠকের বিন্দুমাত্র ভালো লাগে,তবেই আমার এই প্রয়াস সার্থক হয়েছে বলে মনে করব।

এই ebook এর কবিতা গুলি কোনো গোঁড়া ধর্মান্ধ ব্যক্তি  পড়ে আঘাত পেয়ে থাকলে  আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত!

কাব্যগ্রন্থ : ধর্মের গোলকধাঁধা
লেখক : জামাল আনসারী


এই বইটি ডাউনলোড করতে নীচের
 লিঙ্কটি ক্লিক করুন 👇👇👇



খেয়ালখুশির দশটি গল্প


কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লিখেছেন, "ফুল ফুটুক  নাই ফুটুক আজ বসন্ত"  ।তুমি কিছু কাজ কর আর নাই কর।তোমার জন্য ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে না। সময় খরস্রোতা নদীর স্রোতের মতোই ধাবমান। কারও জন্য বিন্দুমাত্র সে অপেক্ষা করে না। 

সেই ব্যস্ততার মাঝে আমার যখন খেয়াল হয়েছে আজ একটি গল্প লিখি। তখনই আমি কোনো বিষয় নিয়ে একটা গল্প লেখার চেষ্টা করছি। যখন আমার ইচ্ছে হয়েছে, কিছু লিখেছি। 

সেই খেয়েলের বসে যে সব গল্প লিখেছি। সেগুলি আজ onlline ebook রূপে " খেয়ালখুশির দশটি গল্প" নাম দিয়ে পাঠকের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।


গল্পগ্রন্থ: খেয়ালখুশির দশটি গল্প
লেখক: জামাল আনসারী
এই গল্পগ্রন্থটি ডাউনলোড করতে নিচের
 লিঙ্কটি খুলুন👇



বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

খেটে খাওয়া দিনমজুর


একশো ছত্রিশ কোটির মহান ভারতে
আমি একজন সাধারন খেটে খাওয়া দিনমজুর।
শ্রম বিক্রি করেই জরাজীর্ণ ঘরটিকে
হিমালয়ের প্রাচীর হয়ে শক্ত করে আঁকড়ে রেখেছি।
আপনারা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের
হর্তা-কর্তা ভাগ্য-বিধাতা.....
না। আপনাদের সাথে আমার কোনো তুলনাই করছি না।
আপনারা বলতে পারেন, আমি কি দোষ করেছি?
কেন আমাকে? শুধু আমাকে নয়.....
আমার মত লক্ষ লক্ষ খেটে খাওয়া দিনমজুরকে
কেন অন্ধকার মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল??
আপনারা যেদিন সারা দেশে
একযোগে জনতা কার্ফু ঘোষণা করলেন
সেদিন আমি পরিবার-পরিজন ছেড়ে
পাঁচশ মাইল দূরে রাজধানী শহরের কারখানায়....
সারাটা দিন বন্দি থাকলাম। কোন কাজ নেই ।
কাজ না করলে টাকা নেই!
সংসার- বউ বাচ্চা ছেড়ে এতদুর আসার একমাত্র কারণ ...টাকা।
টাকায় সব।টাকা ছাড়া এক পা চলে না।
তারপর আপনারা সারাদেশের লকডাউন ঘোষণা করলেন
প্রতিটা নাগরিককে ঘরে থাকতে
ঘরের বাহিরে বেরোতে নিষেধ করলেন।
ভালো কথা ।খুব ভালো কথা।
কিন্তু আমি কি দোষ করেছি?
প্রথমে আমার কাজ বন্ধ হল।
তারপর সারাদিনে একবার খাবারটুকুও বন্ধ করা হলো।
দুদিন পর লাথি মেরে কারখানা থেকে
আমার সাথে হাজার হাজার শ্রমিককে বের করে দেওয়া হলো ।
অনাহারে-অর্ধাহারে সেদিন রাজধানীর ঝাঁ চকচকে রাজপথেই
সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত নিজের চোখে দেখলাম।
মশা মাছির কামড় খেতে খেতে নিদ্রাহীন চোখে
ভেসে উঠল জীবনসঙ্গীর অশ্রুসিক্ত মুখ।
স্পষ্ট  মনে পড়ে, বাবা মারা যাওয়ার পর আমি
সংসারের হাল ধরতে দু মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে ছেড়ে
চার কুড়ি বয়স উত্তীর্ণ জননীর মুখে অন্ন তুলে দিতে
আমার এম,এ পাশের বাঁধানো ডিগ্রিটা গলায় ঝুলিয়ে
কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলাম রাজধানীতে।
না ।আর বেশি কিছু ভাবার সময় পায়নি....
শুরু হল ধুমধাম,ধুমধাম শব্দ।চিৎকার, চেঁচামেচি।
যে যেদিকে পারি পালিয়ে বাঁচি।
আপনারা বলতে পারেন, কি দোষ আমি করেছি?
আমিই কি একশো ছত্রিশ কোটি গণতান্ত্রিক দেশে
মহামারী ভাইরাসকে ডেকে এনেছি?
তবে কোন অপরাধে আমাকে কাজ হারাতে হবে?
কোন অপরাধেই বা পুলিশের অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হবে?

মনে আছে, কারখানার ম্যানেজার বাবু বলেছিলেন...
মার্চ মাসের অন্তিমে একসাথে আমাদের বেতন দেবেন।
কিন্তু আপনারা যেদিন জনগণকে ঘরবন্দি করলেন
লকডাউন এর নামে!
সেদিন মার্চ মাসের 25 তারিখ ছিল।
আমাদের কারোরই তখন বেতন হয়নি।
হাতে টাকা নেই !কি খাব? কিভাবে বাড়ি যাবো ?
সারা দেশে লকডাউন।
বাস নেই।  ট্রেন নেই। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
রাত্রির অন্ধকারে পুলিশের নির্যাতনে ভিন্নরাজ্যে
আটকে থাকা আমার মতো শ্রমিকরা দিশাহারা ।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হল আমাদের অন্তহীন পথ চলা।
খাদ্য নেই!  টাকা-কড়ি কিছু নেই!
শেষ সম্বল বলতে একটিমাত্র প্লাস্টিকের জলের বোতল।
আপনারা বলতে পারেন কি-দোষ-ছিল-আমার?
আমি কি দেশকে ভালোবাসি নি ?
আমি কি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই দেশকে গড়ে তুলি নি?
আর পাঁচজন ছেলের মতোই লেখাপড়া করে মাধ্যমিক পাস করেছি...
উচ্চ মাধ্যমিক,গ্রাজুয়েশন, মাস্টার ডিগ্রি...
সব পাশ করেছি।
তবুও একটা চাকরি নেই!
সংসার প্রতিপালন করার কাজটুকু রাজ্যে নেই!
নিজের জেলায়,নিজের রাজ্যে কাজ পেলে
কেউ কি পরিবার-পারিজন ....সব ছেড়ে
এতদূর অজানা অচেনা ভিন্ন রাজ্যে  কাজ করতে আসে?
কেউ আসে নি। কেউ আসবে না।
ঘণীয়মান  বিপদের দিনে বাড়িতে ছেড়ে আসা স্ত্রীর অশ্রুসিক্ত আঁখি,
আমার মায়ের মলিন মুখটা শেষ বারের মতো দেখার জন্য
আপনাদের লকডাউন অমান্য করেই....
হেঁটে চলেছি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত
খাওয়া নেই! দাওয়া নেই। নেই বিশ্রাম।
কিন্তু কেন? আপনারা বলতে পারেন,আমি কি দোষ করেছি?
আমরাই তো শরীরের রক্ত জল করে ফসল ফলায়
আপনার খাবার টেবিলে সেই অন্ন পোঁছে দিই,
দেশের বিকাশ-রথ বিবরে টানি...
সেই আমরাই হেঁটে চলেছি এক অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে....
জানি, এই পথে মৃত্যু অনিবার্য! তবুও যদি বাড়ি পৌঁছাতে পারি?
কিন্তু না। এখনও বাড়ি পৌঁছাতে পারি নি।
আমার মতো কয়েক সহস্র লোকের মাঝে
আমিও আজ  স্কুলের চারদেয়ালে কোয়ারান্টাইনে বন্দি।
কিন্তু কার দোষে আমার এই বন্দি দশা??
আপনারা বলতে পারেন, আমি কি দোষ করেছি?

©জামাল আনসারী
03/04/2020