বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

রবীন্দ্রনাথ

 রবীন্দ্রনাথ

by জামাল আনসারী


পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ে

      এক স্মরণীয় নাম ।

আকাশে বাতাসে মুখরিত, তব জয়গানে,

      বিশ্বকবি ,জন্মদিনে লহ প্রণাম।


তুমি শুধু হিন্দু, মুসলমানের কবি নয়, 

    মানুষের কবি,  মুক্তমনের কবি ।

ধর্মের সংকীর্ণতার নাগপাশ করে ছিন্ন,

     বিশ্ব মাঝে পেয়েছ নোবেল সম্মান। 

         বাংলা পঁচিশে বৈশাখ,জন্মদিবসে,

     কবিগুরুকে জানাই শতকোটি প্রণাম।


আজও তোমার উপেনরা সভ্য

   সমাজে সমান উপেক্ষিত, 

     অরণ্য ধবংস করে, 

         গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে, 

আদিবাসীদের নির্বাসনে পাঠিয়েছে

একদল অর্থপিশাচের দল।

   যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,

      যারা ফসল ফলায়,

        দুমুঠো ভাতের জন্য যাদের

            মাঠে মাঠে জীবন কাটে, 

দেশের ধনকুবের শিল্পপতিরা

     এই সব উপেনদের সম্পত্তি

         নামে- বেনামে করে হস্তগত।


আজও সেই বিচারের বাণী

   নিরবে নিভৃতে কাঁদে, 

      মানবতার দরজায় দরজায়...

           চিৎকার করেও মানুষের দেখা নাই । 


উগ্রবাদী ধর্মীয় বিষবাষ্পের ছোবলে,

    বিপন্ন মানব সমাজ।

        পূজার বেদী রক্তে ভেজা, 

            টুঁটি চিঁপে হত্যা হয় এখন মানবতার।


কবিগুরু, আজ শিক্ষার বড়ই অভাব, 

   পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত, 

গুটি কয়েক হাতে টিম টিম করে জ্বলে, 

     শিক্ষার আলো, জ্ঞানের মশাল।


বাঙালির চিন্তায়, চেতনায় কাব্য চর্চায়,

   সুরের ঝংকারে------

     আমি খুজেঁ পাই জীবন্ত রবীন্দ্রনাথ।

আমার হৃদয় বীণায় ধ্বনিত, 

     আজ শুধু একটাই নাম, 

        মানুষের কবি, বিশ্বের কবি

            আমার প্রানের কবি রবীন্দ্রনাথ।


09/05/2018

জামাল আনসারী


অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে

 অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে

by জামাল আনসারী

আশালতা,  তোমাকে ভালবেসে
  হৃদয়ে স্থান দিয়ে, আমি কী পেলাম ।
     বুকের অনল জ্বলে ধিক ধিক,
        স্বপ্ন গুলো আজ বেশ ধোঁয়াটে,
ধূপের মতো নীরবে নিঃশেষ হয়ে গেলাম।

কতবার ছুটে গেছি তোমার সুমিষ্ট ডাকে ।
  শিশিরের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়,
      কচি ঘাসে ঘাসে পা মেলি,
          স্বপ্নের পাখায় ভর করে
নির্জনে হাত টি রাখি তোমার হাতে।

বৃষ্টিবাদল দিনে সোঁদা মাটির গন্ধে
     হেঁটে চলেছি গোপন অভিসারে,
  প্রাণ খুলে তোমায় ভালোবাসি ।
মনে মনে ভাবি একান্ত আপন জন ।
   আশালতা,  আমাকে উপেক্ষা করো,
    আজ আমি বুঝতে পারি সব. ..
শুধুই ছলনা,  তুমি করো অভিনয় ।

আশালতা,  তোমাকে ভালবেসে
    হৃদয়ে জমা হলো হিমালয় সম অভিমান,
কিন্তু , আজ তুমি না ভালোবাসলেও
       আমার এই অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে
লিখা থাকবে ছোট্ট করে তোমারই নাম ।

#জামাল আনসারী
08 / 03 / 2017

জামাল আনসারী


সময়ের সাথে সাথে

 সময়ের সাথে সাথে"

by জামাল আনসারী

তেরোটা বসন্ত কেটে গেল
দু জনের মাঝে এখন লোহিত সাগর।
তুমি আছ সেই রাজপ্রসাদে
    সোনার পালঙ্কে, এসি ঘরে।
       আমি আজও সেই অঁজ পাড়া
              গাঁয়ের ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে।
এই ছোট্ট ঘরেই তোমার কেটেছে
                   কত সোনালী বিকেল ।

এখন আর বিকেল হয় না,
     অমাবস্যার রাত্রিই থাকে।
         তোমার এখন কত দাস দাসী ?
নামী দামী কোম্পানির আসবাব পত্র,
    ঝাঁ চকচকে মার্বেল।
        ডাইনিং টেবিলে রুপোর চামচ।

তোমার কি মনে হয় না?
   সেই প্রতিশ্রুতির কথা?
        স্কুলের অফিস ঘর ।
যেখানে তুমি প্রথম হাত  রেখেছিলে হাতে।
    কম্পিত ঠোঁটের আলিঙ্গনে
           বলেছিলে, যদি পৃথিবীটাও  পাল্টে  যায় ,
                 তবুও হাতটি থাকবে তোমারই হাতে।
মনে পড়ে কি সেই পাথর  বাঁধানো নদী ঘাট?
          হাজারো পূর্ণিমার সেই একমাত্র নীরব সাক্ষী।

সময়ের সাথে সাথে কি সবাই পাল্টে যায়?
       পাল্টে গেছে সেই চড়ুই পাখিটি।
প্রতি বছরই স্কুলের অফিস ঘরে
        কাটিয়ে দিত যৌবন কাল।
সেই পাখি আজ  আর নেই,
        কোথায় চলে গেছে তাও জানি না ।
এসেছে নতুন অতিথি এক ঝাঁক কবুতর।
     তুমিও আজ পাল্টে গেছ তাই না?
            পেয়েছ রাজপুত্র,মনের মতো ঘর ।

সময়ের সাথে সাথে পাল্টায় নি শুধু আমি।
আমার হৃদয় জুড়ে তেরো বছরের স্মৃতিরা জেগে আছে।
       তুমি ভুলে গেলেও
             তারা কি আমাকে ভুলে যেতে পারে?
না,  কখনোই পারে না।
স্বপ্নের মধ্যেই আমাকে নিয়ে যাই ,
সেই পাথর বাঁধানো নদীর ঘাটে,
স্কুলের অফিস ঘরে।

স্মৃতি গুলিকে ধরে আছাড় মারতে চাই
কিন্তু কখনোই পারি না।
সময়ের সাথে সাথে সবাই পাল্টে যায়,
পাল্টায় নি শুধু আমি।

#জামাল আনসারী
25 / 04 / 2017


জামাল আনসারী



মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

কন্যা সন্তান

 কন্যা সন্তান

By জামাল আনসারী

রত্নাদেবী ঘুম থেকে উঠে সকালবেলা কাঠের পিঁড়িতে বসে শীতের রোদ পোহাতে পোহাতে শালপাতার চুরুট টানিতেছিল। যেই মাত্র অন্তঃপুরের সূতিকাগৃহ হতে খবর পেল ছোট বৌমা আবার একটি কন্যা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে, সেই মাত্র হাতে ধরা জলন্ত চুরুট টি মাটিতে পড়ে গেল।পড়ে গেলেও চুরুট থেকে তখনও ধোঁয়া বেরুচ্ছে। সেই উড্ডিয়মান ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে, মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে বিরক্তির সুরে বলিল,  "আবার কন্যা সন্তান!"
ভাবখানা এমন যেন কন্যারা মানুষ নয়।
তারপর মনের সুখে ছোট বৌমার উদ্দেশ্যে গালি দিতে লাগিলেন, "পোড়ামুখী !এর পেটে শুধু মেয়েই আছে!ছেলে নাই ।আর একটা হলেই এক গন্ডা পূর্ণ হবেক।"
মুক্ত হরিণকে আড়াল থেকে কোনো ব্যাধ তীর নিক্ষেপ করে বিদ্ধ করিলে, হরিণের যেমন যন্ত্রণা হয় ,তেমনি শাশুড়ির কথাগুলি অন্তঃপুরে সদ্য কন্যা সন্তানের জননী সীতার বুকে এসে বিঁধল।

তবুও সীতা কোন প্রতিবাদ করিল না ।মুখ বুজে সব সহ্য করিল।গায়ে জড়ানো মলিন কাপড়ের একটি খুঁট ধরে দুই চোখের জল মুছে বলিল, "হে ঠাকুর!আমি কি ইচ্ছা করে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছি?  কন্যার জন্ম দেওয়া কি অপরাধ? তুমি ন্যায্য বিচার করো ঠাকুর।"

যে সদ্যজাত  কন্যা সন্তান কে কেন্দ্র করে রত্নাদেবীর সদা হাস্য রত মুখটা এখন পাংশু, বিবর্ন। সেই ফুটফুটে কন্যাটি মায়ের বুকে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে ভাবছে, এই পৃথিবীটা মনে হয় তার মায়ের মুখের হাসির মতোই সুন্দর ও পবিত্র।



মা কালীর দিব্যি বলছি

 মা কালীর দিব্যি বলছি

By জামাল আনসারী

"বাবা,ও বাবা, ওঠো।" মদন কাকা ডাকতে এসেছে।
ছেলের ডাকে রবিবাবু ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে চোখ কচলাতে কচলাতে কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করলেন, "কোন মদন রে?"এতো সকালেই ডাকছে!
... "সেই মদন কাকা গো! যে আমার চাকুরিটা করে দেবে বলেছিল।" তাড়াতাড়ি ছেলেটি বলে ফেলে।

...ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে রবিবাবু ফিক করে হেসে অন্যমনস্ক ভাবে বলল, "ও বুঝেছি। মদন চৌধুরী। আমাদের পঞ্চয়েত এর প্রধান। গত ইলেকশনে ভোটের সময় বলেছিল,ছেলের চাকুরী করে দেব। ভোটে জিতে আর কোনোদিন দেখা করেনি। আজ  সাত সকালেই এসেছে। তাহলে নিশ্চয় ভালো খবর আছে।  যাক এতদিনে ঈশ্বর মুখ তুলে চাইল।"

দেরি না করে ছেলেকে বলে পাঠালো ,"তোর মদন কাকাকে কাঠের পিঁড়িটাই বসতে দে। আমি এখুনি যাচ্ছি।"

রবি বাবু বিছানা ছেড়ে লুঙ্গিটা ভালো করে পরে, ঘর থেকে গলা খাঁকারী দিয়ে বেরুতেই মদন চৌধুরী কাঠের পিঁড়ি থেকে উঠে হাতজোড় করে বললেন, "নমস্কার! নমস্কার রবি দা। ভালো আছেন তো!

রবিবাবুও প্রতি নমস্কার জানিয়ে বলে, "তোমাদের দয়ায় ভালোই আছি।তবে ছেলের চাকুরী করে দেবে বলেছিলে, চাকরির ব্যবস্থা কি হয়েছে?"

..."না। না। রবি দা। এই বারে ভোটে জিতালেই তোমার ছেলেকে আগে চাকরি দেব।  মা কালীর দিব্যি বলছি.....


জামাল আনসারী
 


বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০

সমাজিক নাটক বাল্যবিবাহ

সামাজিক নাটক বাল্য বিবাহ।

রচনায় : জামাল আনসারী


নাটকটি অভিনয় করেছেন মুর্শিদাবাদের Fatullapur sashimoni High school এর ছাত্র ছাত্রী বৃন্দ।
যে সমস্ত ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নাটকটি অভিনীত হল, .... সেই সমস্ত কলা কুশলীদের আমার অন্তরের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।



বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর ,স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী ভাতা দেওয়ার ফলে সমাজে  বাল্য বিবাহ  অনেকটা কমে এসেছে। তবুও সমাজে কোথাও প্রকাশ্যে,

আবার কোথাও লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই নাটকে মূলত আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..

👉প্রথমতঃ সমাজে ছেলেমেয়ে যে দুই সমান তার একটা বার্তা দেওয়া ।


👉দ্বিতীয়তঃ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে  সচেতন করা ।


 👉তৃতীয়তঃ মেয়েদের লড়াক্কু  মনোভাব তৈরি করা ।


 আপনারা নিশ্চয় জানেন যে,বাল্য বিবাহ আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ। মেয়ের বয়স 18 বছর না হলে আপনারা কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন  না।বাল্যবিবাহ  শুধু একটি মেয়ের উপর নয়, এটি সমাজ তথা দেশের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।তাই এ ব্যাপারে  আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। 




নাটক: বাল্যবিবাহ
এই নাটকের ভিডিওটি দেখতে চাইলে youtube এর নীচের লিঙ্কটি খুলুন...
👇👇👇