শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??

 আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??


সমীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বড়লোক। যারা করোনা সম্পর্কে খুবই সচেতন নাগরিক। টিভি, সংবাদপত্রের কল্যানে আজ কত করোনা রোগী বাড়ল, গতকাল কত করোনা রোগী বেড়েছিল, প্রায় সব খবর নখ দর্পণে রাখেন।যারা 24 ঘন্টায় মধ্যে 18 ঘন্টা মাক্স ব্যবহার করেন,ঘনঘন হাতে সেনিটাইজার নেয়,এমনকি কোথাও বাসে বা ট্রেনে এমনকি প্রাইভেট গাড়িতে গেলেও সঙ্গে করে বোতল বোতল সেনিটাইজার নিয়ে যান ।যারা সমাজে VIP বলে পরিচিত।এমনকি যারা অভিনেতা বা অভিনেত্রী তারায় বেশি বেশি করে করোনা আক্রান্ত হয়। VIP ব্যক্তিরা কেউ একবার, কেউ দুবার কেউ তিনবার করে করোনা আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ,দ্বিতীয় ডোজ বহুদিন পূর্বেই নেওয়া হয়ে গেছে। তবুও এরা বারবার করোনায় আক্রান্ত হয়। এবং ভবিষ্যতেও এদের করোনায় বা অমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 99.99%.....


 অন্যদিকে সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, যারা করোনা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সচেতন নয়। মাক্স পরেন না ।যাদের সেনিটাইজার কেনারও পয়সা নেই। এদের 90% বাড়িতে টিভি নেই। এরা সংবাদপত্র পড়েন না,বলে আজ কত করোনা রোগী বাড়ল, গতকাল কত করোনা রোগী বেড়েছিল, তার কোনো হিসেব রাখার প্রয়োজন মনে করেন না। ।ঘনঘন হাতে সেনিটাইজার নেয় না।এমনকি কোথাও বাসে বা ট্রেনে গেলেও সঙ্গে করে বোতল বোতল সেনিটাইজার নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য এদের নেই ।যারা সমাজে শ্রমজীবী, লেবার, দিনমজুর নামে  পরিচিত।যারা গ্রামে বাস করেন ,তাদের কিন্তু সেরকমভাবে করোনা  হয় না। দূরবীন দিয়ে খোঁজা খুঁজির পর যে দু একটা গ্রামের দিকে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়, সেটা পার্সেন্টেজে ধরা যায় না । এদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 0.01%...


এবার আপনি হিসেব করে দেখুন। আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??


(বিঃদ্রঃ―এই সমীক্ষাটি আপনার পছন্দ না হলে আপনি নিজে সমীক্ষা করে হাজার বার দেখতে পারেন।)


©জামাল আনসারী 

08/01/2022



রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

এক-এ চন্দ্র, দুই-এ পক্ষ

 এক-এ চন্দ্র, দুই-এ পক্ষ

....জামাল আনসারী

একটি শিশুর প্রথম লেখাপড়ার হাতেখড়ি বর্ণ পরিচয়। সাথে সাথে শিশুটি বিভিন্ন সংখ্যা গোনা শিখতে থাকে।এ গুলো শিশুর সহজ সরল কোমল মনে এবং বিশ্বাসে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।এই বর্ণ পরিচয় ও বিভিন্ন সংখ্যা গোনার সময় থেকেই জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে শিশুর মনে কিছু আজগুবি, অবিশ্বাস্য, পৌরাণিক ধর্মীয় কুসংস্কারের ধ্যান ধারণা মস্তিষ্কের রন্ধে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আসুন আমরা খোলামেলা মনে সেগুলো আলোচনা দেখি......

১- এক- এ চন্দ্র।চন্দ্র মানে চাঁদ। আমরা সকলেই জানি আমাদের পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হল চাঁদ। তাহলে এক-এ চন্দ্র বলতে একটি চাঁদকে বোঝাচ্ছে। এটা ঠিক আছে।কোনো ভুল নেই।

২- দুই-এ পক্ষ। পক্ষ মানে এখানে কোনো বর পক্ষ বা কনে পক্ষের কথা বলা হয়নি,শত্রুপক্ষ, মিত্রপক্ষ নয় ।বাংলা অভিধানে পক্ষ শব্দের অর্থ দেওয়া আছে.."চাঁদের বৃদ্ধিকাল বা হ্রাসকাল (শুক্লপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ); প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত সময়; মাসার্ধ, পনেরো দিন (তিনি এক পক্ষকাল বিদেশে থাকবেন)।"

এখানে দুই-এ পক্ষ বলতে  মাসের দুটি (মাসার্ধ)পক্ষকে বোঝানো হয়েছে। এই পক্ষ দুটি হল কৃষ্ণপক্ষ এবং শুক্লপক্ষ।

৩-তিন-এ নেত্র। নেত্র শব্দের অর্থ সংসদ বাংলা অভিধানে লেখা আছে চক্ষু,...

এখন তিন-এ নেত্র বলতে এখানে তিনটি চক্ষুর কথা বলা হয়েছে। সমস্যাটি এখানেই।গোটা বিশ্ব তন্ন তন্ন করে খোঁজ করলেও কোনো মানুষ তো দূরের কথা। গরু,ছাগল,হাঁস মুরগী, কোনো পশু পাখির মধ্যে কারোও তিনটি চোখ খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে আজগুবি, অবিশ্বাস্য, গল্পের গরু গাছে চড়ে মার্কা পৌরাণিক গল্প গুলো টেনে আনা হয়েছে। পৌরাণিক গালগল্পে আছে পৃথিবীর যতসব আষাঢ়ে গল্প গুলোর আঁতুরকুড়।পুরানেই পাওয়া যায় কারো জন্ম মাথা থেকে তো কারো জন্ম পা থেকে। কেউ উরু থেকে, কেউ আবার বাহু থেকে জন্ম গ্রহন করে। যতসব হাস্যকর অবৈজ্ঞানিক কান্ডকারখানা! এমন কি চোখের জল থেকে; কান থেকেও মানুষের জন্ম হওয়ার কথা পুরানে লেখা আছে। সেই পৌরাণিক কাহিনীতে শিবের তিনটি চোখের কথা বলা আছে। তাছাড়া কিছু পুরানে দুর্গার তিনটি চোখের কথা বলা হয়েছে।এটা নিয়েও নানা মুনির নানা মত। বির্তকিত বিষয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিশু মনে কেন এই অবৈজ্ঞানিক, বিতর্কিত বিষয় গুলো ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এর উদ্দেশ্যই বা কি তা পাঠকদের ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।

৪- চার এ বেদ। আমরা জানি বৈদিক যুগে চারটি বেদ ছিল। এই চারটি বেদ হল...1) ঋক 2) সাম 3)যজু 4) অথর্ব।  ঘুরে ফিরে সেই পৌরাণিক বিষয়। ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের কি এগুলো জানা খুব প্রয়োজন? পাঠকগণ একটু ভেবে দেখবেন। 

৫-পাঁচ এ পঞ্চবাণ। বাণ শব্দের অর্থ বাংলা অভিধানে লেখা আছে,ধনুক থেকে যে তীক্ষ্ণাগ্র অস্ত্র নিক্ষিপ্ত হয়, তির, শর।হিন্দু ধর্ম অনুসারে কামদেব অথবা মদন দেবের পাঁচটি বানের কথা বলা হয়ে থাকে। এই পাঁচটি বাণ হল...১) সম্মোহন 2)তাপন 3)শোষণ 4)উন্মাদন 5) স্তম্ভন। এখানেও সেই সহজ সরল শিশুর মনে ও বিশ্বাসে ধর্মীয় বিষয় পরিকল্পনা মাফিক  ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে শুরু হয় ধর্মীয় কুসংস্কারের পাঠ। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়, এযাবৎ পৃথিবীতে লড়াই ঝগড়া করে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার সংখ্যাধিক্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধর্মের কারনে। তাই ছোট্ট ছোট্ট সহজ সরল শিশুদের লেখাপড়ার হাতেখড়িতেই ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ কেন?

৬- ছয়-এ ঋতু।আমরা যারা ভূগোল বই পড়েছি,তারা সময় জানি যে, গোটা বছরকে ছয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। এই ছয়টি ঋতু হল... 1)গ্রীষ্ম 2) বর্ষা 3) শরৎ 4) হেমন্ত 5) শীত 6) বসন্ত। এটা সত্যি।এটা মানতে কারো অসুবিধা নেই।

৭- সাত-এ সমুদ্র।বাংলা অভিধানে সমুদ্র শব্দের অর্থ দেওয়া আছে..সাগর,অর্ণব,দরিয়া,জলধি,বারিধি,অম্বুনিধি,প্রচেতা,জলেন্দ্র,জলেশ্বর,জলারণ্য,জলধর,নীলাম্বু,মকরালয়,মকরাকর,নীরধি,পয়োধি,জলাধিপ,বারিধর,বারিনিধি,বারীন্দ্র,বারীশ, প্রভৃতি। 

এখানে সাত-এ সমুদ্র বলতে সাতটি সমুদ্র বা সাগরের কথা বলা হয়েছে। এই সাতটি সমুদ্র কোথায় অবস্থিত? বিভিন্ন দেশের ভূগোল বইয়ে খোঁজ করলে দেখা যাবে। মহাসাগর আছে, সাগর আছে ,উপসাগর আছে। কিন্তু কোনোটিই সংখ্যায় সাতটি নয়।এই পৃথিবীতে সমুদ্র বা সাগরের সংখ্যা মোট সাতটি নয়। আরো বেশি। উইকিপিডিয়া অনুসন্ধান করলে অনেক সাগর বা সমুদ্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন..

লোহিত সাগর। বঙ্গোপসাগর। আরব সাগর।তিমুর সাগর।জাপান সাগর।দক্ষিণ চীন সাগর। জাভা সাগর। মৃত সাগর।বেরিং সাগর। কৃষ্ণ সাগর।ভূমধ্যসাগর প্রভৃতি।কিন্তু সাত-এ সমুদ্র এগুলো নয়।



সাত-এ সমুদ্র হল,আমাদের দেশের পুরাণে বর্ণিত  সাতটি সমুদ্রের নাম। এগুলি হল –1) লবণ 2) ইক্ষুরস 3)সুরা 4)ঘৃত 5)দধি 6)ক্ষীর 7)মিষ্টি 

হ্যাঁ। এগুলিকেই সমুদ্র বলে মানতে হবে।শিখতে হবে। বাচ্চাদের শেখাতে হবে। আচ্ছা, শিশুদের  সংখ্যামালা  শেখার সাথে সাথে  এই ভুল ধ্যান ধারণা গুলি কেন শিখতে হবে? সচেতন পাঠকদের এটাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।


৮ - আটে অষ্টবসু। অষ্ট বসু মানে আট জন বসুর কথা বলা হয়েছে।মহাভারত অনুযায়ী দক্ষ রাজার কন্যা বসুর গর্ভজাত আটপুত্রকে বলা হয় অষ্টবসু। তাঁরা হলেন....1) ধর  2) ধ্রুব 3)সোম 4)অহ 5) অনিল 6)অনল 7)প্রত্যুষ 8)প্রভাস বা দ্যু। বলা হয় এই অষ্টবসুরাই ইন্দ্রের সহকারী, পরবর্তীতে তারা বিষ্ণুর সহকারী হন।

অষ্টবসুর এক বসু প্রভাস বা দ্যু যিনি মাতা গঙ্গা ও শান্তনুর পুত্র রূপে দেবব্রত নামে মর্ত্যে জন্মগ্ৰহণ করেন । পরে তার ভীষণ প্রতিজ্ঞার কারণে ভীষ্ম নামে পরিচিত হন‌।


বৃহদারন্যক পুরাণ অনুযায়ী অষ্ট বসু হচ্ছে.... 1)পৃথিবী 2)অগ্নি 3)বায়ু 4)অন্তরীক্ষ 5) আদিত্য 6)চন্দ্রমা 7) নক্ষত্রাণি 8) দ্যু।

এখানেও সেই বির্তকিত বিষয়ের অবতারণা। একটার সাথে একটার কোনও মিল নেই!তবুও শিখতে হবে।পড়তে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে! কিন্তু কেন??

৯- নয়-এ নবগ্রহ।নবগ্রহ মানে নয়টি গ্রহ।বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে নয়টিগ্রহের কথা বলা হয়েছে ।সেগুলি হল রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু।

এখানে রবি অর্থাৎ সূর্যকে পুরানে গ্রহ বলা হয়েছে। কিন্তু রবি তো একটি নক্ষত্র। আমরা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে শিশুদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছি। তাছাড়া রাহু ও কেতু নামে  কোনো গ্রহের  অস্তিত্ব এই সৌরজগতে নেই। তবুও আমরা নয়টি গ্রহের মধ্যে রাহু কেতুকে রেখেছি। কারন পুরানে আছে। তাই রাহু, কেতু কে গ্রহ বলেই মানতে হবে।পড়তে হবে।শিখতে হবে।বাচ্চাদের শেখাতে হবে। কিন্তু কেন??

হিন্দু ধর্মের পুরাণ অনুসারে, "সমুদ্র মন্থনের সময় রাহু (স্বরভানু) নামক এক অসুর লুকিয়ে দিব্য অমৃতের কয়েক ফোঁটা পান করে। সূর্য্য ও চন্দ্রদেব তাকে চিনতে পেরে মোহিনী অবতাররূপী ভগবান বিষ্ণুকে জানায়। তৎক্ষণাৎ,অমৃত গলাধঃকরণের পূর্বেই বিষ্ণু আপন সুদর্শন চক্রের মাধ্যমে রাহুর ধড় থেকে মুন্ড ছিন্ন করে দেন। অমৃত পানের জন্য মুন্ডটি অমরত্ব লাভ করে এবং এভাবেই রাহু গ্রহটির উৎপত্তি হয়; (এই ভাবে কি কোনো গ্রহের জন্ম হতে পারে ?) বাকী মুন্ডহীন দেহটির নাম হয় কেতু। সূর্য্য ও চন্দ্রের প্রতি বিদ্বেষের কারণে বছরের নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাহু এদেরকে গ্রাস (গ্রহণ) করে ফেলে। কিন্তু এই গ্রহণের পর সূর্য্য ও চন্দ্র রাহুর কাটা গ্রীবা থেকে আবার বেরিয়ে আসে।এই ভাবেই সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ হয়।" যা একটি অবৈজ্ঞানিক মতবাদ। 


আমরা ভূগোল বইয়ে পড়েছি সৌরমণ্ডলের কথা।সৌরমন্ডলে যে নয়টিগ্রহের নাম রয়েছে সেগুলি হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি,শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লুটো। যদিও তার মধ্যে বর্তমানে প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্লুটোকে বলা হয় বামন গ্রহ। ভেবে দেখুন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানের  অভূতপূর্ব উন্নতির পরও আমরা কি পৌরাণিক গালগল্প গুলো মানব না বিজ্ঞান মানব ! বাচ্চাদের স্বার্থে এ কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনার!

১০-দশ-এ দিক।দশটি দিকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দশটি নাম  হল পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈঋত, উর্ধ এবং অধঃ।... এটা সত্যি। তাই এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। 

সময়ের সাথে বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে চলায় বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নে উদ্ধৃতি করে এই লেখা শেষ করছি।


"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে

সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে;

যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়

পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।"



ঋণ স্বীকার।

সংসদ বাংলা অভিধান।

বাংলা অভিধান।

কয়েকটি পুরাণ গ্রন্থ।

উইকিপিডিয়া।



বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

মোদী সরকার কি কৃষক দরদী সরকার ?


কেন্দ্রের মোদি সরকার কি কৃষক-শ্রমিক দরদী সরকার??

জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার যে সবসময় জনগণের সরকার হবে, তা নাও হতে পারে।

কেন্দ্রের মোদি সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু দেখুন সেই সরকার যতগুলো নতুন আইন এনেছেন ।তার একটাও কি জনগণের ভালোও জন্য....??
কেন্দ্রের আনা কৃষি বিল― কৃষক বিরোধী বিল।
কেন্দ্রের আনা নাগরিকত্ব বিল ― ভারতের নাগরিক বিরোধী।
কেন্দ্রের আনা চিকিৎসা বিল ― আধুনিক চিকিৎসা বিরোধী।
তাহলে এই আইন গুলো কাদের ভালোর জন্য??

কৃষি বিল যদি কৃষকদের মঙ্গলের জন্য, কৃষকদের ভালোর জন্য হতো , তাহলে দেশব্যাপী এতো কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন হত না। ?কৃষি বিলের বিরুদ্ধে দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে আন্দোলনে নেমেছে। তাহলে কার স্বার্থে মোদি সরকার এই কৃষি বিল পাশ করল??

শীতকালে  নেতা মন্ত্রীরা যখন লেপের নীচে আরামে নিদ্রামগ্ন ।সেই সময় শীতের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই দিল্লির রাজপথে দিন রাত্রি এক করে  কৃষকরা কালা আইনের বিরোধিতা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ এই কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। অনেকে সরকারের দেওয়া সম্মানীয় উপাধি , পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে এই কৃষি আইনের প্রতিবাদ করছে। তবুও মোদি সরকারের  কিছু আসে যায় না।
কারন মোদি সরকার গরিব বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার কৃষক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার শ্রমিক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার আদিবাসী বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার দলিত বিরোধী সরকার।

তাই কৃষক আন্দোলন এক মাস পেরিয়ে গেলেও মোদিজী কৃষকদের প্রতি নূন্যতম সম্মান জানিয়ে আলোচনায় একবারও  বসেনি। কৃষকের ন্যায্য দাবিকে মূল্য দিয়ে কৃষক বিল প্রত্যাহার করে নি।
তবে হ্যাঁ। মোদিজী দেশের অন্নদাতা কৃষকদের কাছে না গেলেও  তাঁর সরকারের প্রাণভোমরা আম্বানির ছেলে না নাতি কোন নার্সিংহোমে হয়েছে, সেখানে গিয়েছিলেন। আর যাবেই না কেন?? দেশের ধনকুবেররাই তো সরকারের নিয়ন্ত্রক!! 

অতিমারি - মহামারিতে দেশের মানুষ সর্বস্বান্ত। ঘরে ঘরে অর্থকষ্ট। কৃষক- শ্রমিক- যারা দিন আনে দিন খাই, সেই সমস্ত মানুষের যে কি কষ্টে দিন যাচ্ছে! তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই ভালো জানে। অতিমারি ক্লিষ্ট সময়ে, দেশের অর্থনীতি যখন প্রায় কোমায় চলে গেছে,সেই সময়  এক হাজার কোটি টাকা বাজেট পেশ করে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কার স্বার্থে??

©জামাল আনসারী
16/12/2020



ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী ?

ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী??

ভারতের 70% মানুষ কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের বাঁচার একমাত্র রসদ। যে বছর ভালো ফসল হয়, সে বছর কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর ভালো ফসল না হলে কৃষকের মাথায় হাত!! কি করে খেয়ে পরে দিন যাবে সেই চিন্তায় দিন কাটে,রাত কাটে। সাধারণত কৃষকরা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যে থাকে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের হাতে না মেরে ভাতে মারার জন্য  কৃষক বিরোধী বিল এনেছে। এরপরের কি কৃষকরা চুপ করে থাকবে??

দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে সারা দেশব্যাপী এই কালা কৃষক আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে। দিল্লির রাজপথে খোলা আকাশের নীচে প্রচন্ড শীতের দুঃখ কষ্ট সহ্য করেই  লক্ষ লক্ষ কৃষকরা আন্দোলনে সামিল হয়েছে ।এই আন্দোলন আজ 30 দিনে পড়ল।  এই আন্দোলনের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করে মোদী সরকারের দু চোখের ঘুম উড়ে গেছে। তাই গোদি মিডিয়া সরকারকে বাঁচাতে বলছে কৃষকরা দেশদ্রোহী। আসলে দেশের যারা ভালো চায়, দেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে, তারাই এখন সরকারের চোখে দেশদ্রোহী, আর যারা দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করছে আর বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তারায় দেশপ্রেমিক।

©জামাল আনসারী
16/12/2020



বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

উত্তরপ্রদেশের দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকি কি ন্যায্য বিচার পাবে??

 মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উত্তরপ্রদেশের ভোগী(বেশির ভাগ সচেতন ভারতীয় নাগরিক তাই বলেন) আদিত্যনাথ কতখানি যোগ্য তা আজ দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার । তবুও যারা এখনও গোমূত্রের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে দিবানিদ্রায় মগ্ন, তারা দেখতে পাবে না। কারণ তারা নিশাচারী। তাদের গোপন কাজকর্ম (কুকর্ম) সফল করতে রাতের অন্ধকারেই উপযুক্ত। 


মাত্র কয়েক বছরের সুশাসনে গোটা উত্তরপ্রদেশটাকেই যোগী রাম রাজ্য বানিয়ে ফেলেছে। ভারতের ক্রাইম রেকর্ড বলছে, গোটা ভারতের মধ্যে যোগীর রাজ্য নারী ধর্ষণের মুক্তাঞ্চলে পরিনত হয়েছে। ধর্ষণের রাজধানী। আর হবেই না কেন?  রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বড় বড় নেতাদের আশীর্বাদে বেড়ে ওঠে এক একজন গ্যাংস্টার। সত্যি বলতে এই গ্যাংস্টার রাই রাজনৈতিক দলের মেরুদন্ড। তারাই হচ্ছে যত কুকর্মের নাটেরগুরু।


কিছু কিছু ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেই, তখন জানা যায়,ফল্গুধারার মতো দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি কতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঊনিশ বছরের দলিত তরুণী মনীষা বাল্মীকির ধর্ষণের ঘটনা তারমধ্যে একটি। এটাকে শুধুমাত্র ধর্ষণের ঘটনা বললে হবে না। তরুণী বোনটির প্রতি অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বীভৎস, ভয়াবহ ছিল যে সোশাল মিডিয়া বা টিভিতে শুনে কোনও সুস্থ নাগরিক স্থির থাকতে পারবে না।  জানা যাচ্ছে এই ধর্ষণের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের চারজন উচ্চবর্ণের ছেলে জড়িত। যে নামগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, সেই কুলাঙ্গাররা হল,লবকুশ, সন্দীপ, রবি আর রামু। তারা চারজনই ধর্ষণের পর প্রমান লোপাটের চেষ্টা করেছে। তাই তারা প্রথমেই ঠান্ডা মাথায় দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকিকে  হত্যা করে। জিভ পর্যন্ত কোনো ধারালো অস্ত্রের দ্বারা কেটে ফেলে। ধর্ষকদের পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটির কন্ঠনালী প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষে পনেরো দিন পর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে  হার মানেন মনীষা বাল্মীকি। 


এমন নিকৃষ্টতম ধর্ষণের ঘটনায় গোটা দেশ অপরাধীদের বিচার চেয়ে উত্তাল।  সবাই দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি চাই।  হ্যাঁ আমিও চাই। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি। অনেকে বলেন, দেশে কঠিন আইন আনতে হবে। তবেই ধর্ষণ কমবে। নির্ভয়া কাণ্ডের পর নতুন আইন তৈরি হল। কিন্তু ধর্ষণের সংখ্যা কমে নি।তাই আইন এনে কিছুই হবে না। দরকার মানসিকতা পরিবর্তন।তবে আমার ব্যক্তিগত মত, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম কাজে জড়িতদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কাজ হবে না।তাদের প্রকাশ্যে অন্ডকোষ সমেত লিঙ্গ কেটে ফেলতে হবে। তবেই যদি কিছু কাজ হয় তো হবে।


আসল নাটক শুরু হল এরপর। আমরা যতই শাস্তি চাই, শাস্তি চাই বলে চিৎকার করি না কেন! যারা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার অধিকারী। তারা কোনো এক অদৃশ্যে আঙ্গুলি নির্দেশে  অপরাধীদের আড়াল করার জন্য আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। কারন তারা উচ্চবর্ণের। তাই গোদি মিডিয়া চুপ। আইটি সেল চুপ। শাসকের কাছে বুদ্ধি বন্ধক রাখা বুদ্ধিজীবীরা চুপ।কারন দোষীদের মধ্যে একজনের নামও মুসলিম নেই। জটিল ভগাংশের অংক না কোষলেও তারা জানে এতে তাদের লাভ নেই। তাই হৈ চৈ করে প্রতিবাদ করে কি হবে? হায় রে বুদ্ধিজীবী!!


অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সুপার ভিকরান্ত ভির তার তদন্ত করে তার রিপোর্ট এ জানিয়েছে, মনীষা বাল্মীকিকে আদৌ ধর্ষণ করা হয়নি। কারন মেয়েটির শরীরে কোনরূপ ধর্ষণের বা শ্লীলতাহানির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া মেয়েটির জিভ নাকি কেটে ফেলা হয়নি ।সেটি অক্ষত আছে।  মেরুদন্ডও নাকি ভেঙে যায় নি। বাহ্ রে বাহ্ পুলিশ সুপার!!


এতকিছু জানার পরেও অপরাধীদের কঠিন শাস্তি চাইছি।তবে ঐ যে ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। আমারও ভয় হয়, কি জানি  মনীষা বাল্মীকি ন্যায্য বিচার পাবে কিনা! কারন টাকার কাছে, ক্ষমতার কাছে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশা এই পোড়া দেশে খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।


তবুও আশা রাখতে হয়।একদিন দোষীদের শাস্তি হবেই।

#justiceformanishabalmiki

©জামাল আনসারী

01/10/2020



বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফিরে দেখা―ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর

 আমার স্কুলের ইতিহাসের স্যার ছিলেন মুরুলি স্যার। তিনি খুব সুন্দর করে ইতিহাস পড়াতেন।একদিন তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্কে ক্লাসে  আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই দিনের আলোচনার  সব কিছু মনে রাখতে না পারলেও একটি কথা আমার আজও মনে পড়ে। সেটি হল " বণিকের মানদন্ড দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে।"

আমরা সকলেই জানি যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শুধুমাত্র ব্যবসা করতে এসেছিল। কিন্তু কালক্রমে সেই কোম্পানিই গোটা ভারতের শাসন ক্ষমতা দখল করেছিল।  দেশকে শোষণ করে আখের ছিবড়ায় পরিণত করেছিল।  বণিকের মানদন্ডকে রাজদণ্ডে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল,আমাদের দেশেরই মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি। 


 দেশের মানুষ ইতিহাস থেকে কিছুই শিক্ষা নেয় নি।  শিক্ষা নিলে আজ দেশের এই করুন অবস্থা হত না। 


বর্তমানেও তো স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এরাই দেশের সম্পত্তি হস্তান্তর করে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আবার শিল্পপতিরা জনগণের ঘাড় মটকে তাদের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় করে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে।


যেদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা করতে ভারতে এল। সেদিন কোনও ভারতীয় কি জানতো সেই কোম্পানিই একদিন ভারতের দন্ড মুন্ডের কর্তা বিধাতা হয়ে উঠবে! 


বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। "গরিবের কথা বাসি হলে মিঠা লাগে।"

মিলিয়ে দেখবেন, এভাবে চললে কয়েক বছর পর আম্বানি, আদানি প্রভৃতি শিল্পপতিরা গোটা দেশের ক্ষমতা দখল করবেই। আর তারপর ঘটবে মিরাকেল! আখ কলে যেভাবে আখ পেষায়(মাড়াই) করা হয়, সেভাবেই জনগণকে পিষে মারবে। তখনই সাধারণ মানুষের চেতনা ফিরবে। স্পষ্ট বুজতে পারবে দেশের বিশ্বাসঘাতক কারা ছিল?? 


@জামাল আনসারী

24/09/2020