বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

মোদী সরকার কি কৃষক দরদী সরকার ?


কেন্দ্রের মোদি সরকার কি কৃষক-শ্রমিক দরদী সরকার??

জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার যে সবসময় জনগণের সরকার হবে, তা নাও হতে পারে।

কেন্দ্রের মোদি সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু দেখুন সেই সরকার যতগুলো নতুন আইন এনেছেন ।তার একটাও কি জনগণের ভালোও জন্য....??
কেন্দ্রের আনা কৃষি বিল― কৃষক বিরোধী বিল।
কেন্দ্রের আনা নাগরিকত্ব বিল ― ভারতের নাগরিক বিরোধী।
কেন্দ্রের আনা চিকিৎসা বিল ― আধুনিক চিকিৎসা বিরোধী।
তাহলে এই আইন গুলো কাদের ভালোর জন্য??

কৃষি বিল যদি কৃষকদের মঙ্গলের জন্য, কৃষকদের ভালোর জন্য হতো , তাহলে দেশব্যাপী এতো কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন হত না। ?কৃষি বিলের বিরুদ্ধে দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে আন্দোলনে নেমেছে। তাহলে কার স্বার্থে মোদি সরকার এই কৃষি বিল পাশ করল??

শীতকালে  নেতা মন্ত্রীরা যখন লেপের নীচে আরামে নিদ্রামগ্ন ।সেই সময় শীতের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই দিল্লির রাজপথে দিন রাত্রি এক করে  কৃষকরা কালা আইনের বিরোধিতা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ এই কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। অনেকে সরকারের দেওয়া সম্মানীয় উপাধি , পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে এই কৃষি আইনের প্রতিবাদ করছে। তবুও মোদি সরকারের  কিছু আসে যায় না।
কারন মোদি সরকার গরিব বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার কৃষক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার শ্রমিক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার আদিবাসী বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার দলিত বিরোধী সরকার।

তাই কৃষক আন্দোলন এক মাস পেরিয়ে গেলেও মোদিজী কৃষকদের প্রতি নূন্যতম সম্মান জানিয়ে আলোচনায় একবারও  বসেনি। কৃষকের ন্যায্য দাবিকে মূল্য দিয়ে কৃষক বিল প্রত্যাহার করে নি।
তবে হ্যাঁ। মোদিজী দেশের অন্নদাতা কৃষকদের কাছে না গেলেও  তাঁর সরকারের প্রাণভোমরা আম্বানির ছেলে না নাতি কোন নার্সিংহোমে হয়েছে, সেখানে গিয়েছিলেন। আর যাবেই না কেন?? দেশের ধনকুবেররাই তো সরকারের নিয়ন্ত্রক!! 

অতিমারি - মহামারিতে দেশের মানুষ সর্বস্বান্ত। ঘরে ঘরে অর্থকষ্ট। কৃষক- শ্রমিক- যারা দিন আনে দিন খাই, সেই সমস্ত মানুষের যে কি কষ্টে দিন যাচ্ছে! তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই ভালো জানে। অতিমারি ক্লিষ্ট সময়ে, দেশের অর্থনীতি যখন প্রায় কোমায় চলে গেছে,সেই সময়  এক হাজার কোটি টাকা বাজেট পেশ করে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কার স্বার্থে??

©জামাল আনসারী
16/12/2020



ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী ?

ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী??

ভারতের 70% মানুষ কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের বাঁচার একমাত্র রসদ। যে বছর ভালো ফসল হয়, সে বছর কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর ভালো ফসল না হলে কৃষকের মাথায় হাত!! কি করে খেয়ে পরে দিন যাবে সেই চিন্তায় দিন কাটে,রাত কাটে। সাধারণত কৃষকরা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যে থাকে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের হাতে না মেরে ভাতে মারার জন্য  কৃষক বিরোধী বিল এনেছে। এরপরের কি কৃষকরা চুপ করে থাকবে??

দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে সারা দেশব্যাপী এই কালা কৃষক আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে। দিল্লির রাজপথে খোলা আকাশের নীচে প্রচন্ড শীতের দুঃখ কষ্ট সহ্য করেই  লক্ষ লক্ষ কৃষকরা আন্দোলনে সামিল হয়েছে ।এই আন্দোলন আজ 30 দিনে পড়ল।  এই আন্দোলনের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করে মোদী সরকারের দু চোখের ঘুম উড়ে গেছে। তাই গোদি মিডিয়া সরকারকে বাঁচাতে বলছে কৃষকরা দেশদ্রোহী। আসলে দেশের যারা ভালো চায়, দেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে, তারাই এখন সরকারের চোখে দেশদ্রোহী, আর যারা দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করছে আর বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তারায় দেশপ্রেমিক।

©জামাল আনসারী
16/12/2020



বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

উত্তরপ্রদেশের দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকি কি ন্যায্য বিচার পাবে??

 মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উত্তরপ্রদেশের ভোগী(বেশির ভাগ সচেতন ভারতীয় নাগরিক তাই বলেন) আদিত্যনাথ কতখানি যোগ্য তা আজ দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার । তবুও যারা এখনও গোমূত্রের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে দিবানিদ্রায় মগ্ন, তারা দেখতে পাবে না। কারণ তারা নিশাচারী। তাদের গোপন কাজকর্ম (কুকর্ম) সফল করতে রাতের অন্ধকারেই উপযুক্ত। 


মাত্র কয়েক বছরের সুশাসনে গোটা উত্তরপ্রদেশটাকেই যোগী রাম রাজ্য বানিয়ে ফেলেছে। ভারতের ক্রাইম রেকর্ড বলছে, গোটা ভারতের মধ্যে যোগীর রাজ্য নারী ধর্ষণের মুক্তাঞ্চলে পরিনত হয়েছে। ধর্ষণের রাজধানী। আর হবেই না কেন?  রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বড় বড় নেতাদের আশীর্বাদে বেড়ে ওঠে এক একজন গ্যাংস্টার। সত্যি বলতে এই গ্যাংস্টার রাই রাজনৈতিক দলের মেরুদন্ড। তারাই হচ্ছে যত কুকর্মের নাটেরগুরু।


কিছু কিছু ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেই, তখন জানা যায়,ফল্গুধারার মতো দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি কতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঊনিশ বছরের দলিত তরুণী মনীষা বাল্মীকির ধর্ষণের ঘটনা তারমধ্যে একটি। এটাকে শুধুমাত্র ধর্ষণের ঘটনা বললে হবে না। তরুণী বোনটির প্রতি অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বীভৎস, ভয়াবহ ছিল যে সোশাল মিডিয়া বা টিভিতে শুনে কোনও সুস্থ নাগরিক স্থির থাকতে পারবে না।  জানা যাচ্ছে এই ধর্ষণের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের চারজন উচ্চবর্ণের ছেলে জড়িত। যে নামগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, সেই কুলাঙ্গাররা হল,লবকুশ, সন্দীপ, রবি আর রামু। তারা চারজনই ধর্ষণের পর প্রমান লোপাটের চেষ্টা করেছে। তাই তারা প্রথমেই ঠান্ডা মাথায় দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকিকে  হত্যা করে। জিভ পর্যন্ত কোনো ধারালো অস্ত্রের দ্বারা কেটে ফেলে। ধর্ষকদের পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটির কন্ঠনালী প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষে পনেরো দিন পর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে  হার মানেন মনীষা বাল্মীকি। 


এমন নিকৃষ্টতম ধর্ষণের ঘটনায় গোটা দেশ অপরাধীদের বিচার চেয়ে উত্তাল।  সবাই দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি চাই।  হ্যাঁ আমিও চাই। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি। অনেকে বলেন, দেশে কঠিন আইন আনতে হবে। তবেই ধর্ষণ কমবে। নির্ভয়া কাণ্ডের পর নতুন আইন তৈরি হল। কিন্তু ধর্ষণের সংখ্যা কমে নি।তাই আইন এনে কিছুই হবে না। দরকার মানসিকতা পরিবর্তন।তবে আমার ব্যক্তিগত মত, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম কাজে জড়িতদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কাজ হবে না।তাদের প্রকাশ্যে অন্ডকোষ সমেত লিঙ্গ কেটে ফেলতে হবে। তবেই যদি কিছু কাজ হয় তো হবে।


আসল নাটক শুরু হল এরপর। আমরা যতই শাস্তি চাই, শাস্তি চাই বলে চিৎকার করি না কেন! যারা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার অধিকারী। তারা কোনো এক অদৃশ্যে আঙ্গুলি নির্দেশে  অপরাধীদের আড়াল করার জন্য আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। কারন তারা উচ্চবর্ণের। তাই গোদি মিডিয়া চুপ। আইটি সেল চুপ। শাসকের কাছে বুদ্ধি বন্ধক রাখা বুদ্ধিজীবীরা চুপ।কারন দোষীদের মধ্যে একজনের নামও মুসলিম নেই। জটিল ভগাংশের অংক না কোষলেও তারা জানে এতে তাদের লাভ নেই। তাই হৈ চৈ করে প্রতিবাদ করে কি হবে? হায় রে বুদ্ধিজীবী!!


অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সুপার ভিকরান্ত ভির তার তদন্ত করে তার রিপোর্ট এ জানিয়েছে, মনীষা বাল্মীকিকে আদৌ ধর্ষণ করা হয়নি। কারন মেয়েটির শরীরে কোনরূপ ধর্ষণের বা শ্লীলতাহানির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া মেয়েটির জিভ নাকি কেটে ফেলা হয়নি ।সেটি অক্ষত আছে।  মেরুদন্ডও নাকি ভেঙে যায় নি। বাহ্ রে বাহ্ পুলিশ সুপার!!


এতকিছু জানার পরেও অপরাধীদের কঠিন শাস্তি চাইছি।তবে ঐ যে ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। আমারও ভয় হয়, কি জানি  মনীষা বাল্মীকি ন্যায্য বিচার পাবে কিনা! কারন টাকার কাছে, ক্ষমতার কাছে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশা এই পোড়া দেশে খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।


তবুও আশা রাখতে হয়।একদিন দোষীদের শাস্তি হবেই।

#justiceformanishabalmiki

©জামাল আনসারী

01/10/2020



বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফিরে দেখা―ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর

 আমার স্কুলের ইতিহাসের স্যার ছিলেন মুরুলি স্যার। তিনি খুব সুন্দর করে ইতিহাস পড়াতেন।একদিন তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্কে ক্লাসে  আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই দিনের আলোচনার  সব কিছু মনে রাখতে না পারলেও একটি কথা আমার আজও মনে পড়ে। সেটি হল " বণিকের মানদন্ড দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে।"

আমরা সকলেই জানি যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শুধুমাত্র ব্যবসা করতে এসেছিল। কিন্তু কালক্রমে সেই কোম্পানিই গোটা ভারতের শাসন ক্ষমতা দখল করেছিল।  দেশকে শোষণ করে আখের ছিবড়ায় পরিণত করেছিল।  বণিকের মানদন্ডকে রাজদণ্ডে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল,আমাদের দেশেরই মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি। 


 দেশের মানুষ ইতিহাস থেকে কিছুই শিক্ষা নেয় নি।  শিক্ষা নিলে আজ দেশের এই করুন অবস্থা হত না। 


বর্তমানেও তো স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এরাই দেশের সম্পত্তি হস্তান্তর করে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আবার শিল্পপতিরা জনগণের ঘাড় মটকে তাদের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় করে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে।


যেদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা করতে ভারতে এল। সেদিন কোনও ভারতীয় কি জানতো সেই কোম্পানিই একদিন ভারতের দন্ড মুন্ডের কর্তা বিধাতা হয়ে উঠবে! 


বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। "গরিবের কথা বাসি হলে মিঠা লাগে।"

মিলিয়ে দেখবেন, এভাবে চললে কয়েক বছর পর আম্বানি, আদানি প্রভৃতি শিল্পপতিরা গোটা দেশের ক্ষমতা দখল করবেই। আর তারপর ঘটবে মিরাকেল! আখ কলে যেভাবে আখ পেষায়(মাড়াই) করা হয়, সেভাবেই জনগণকে পিষে মারবে। তখনই সাধারণ মানুষের চেতনা ফিরবে। স্পষ্ট বুজতে পারবে দেশের বিশ্বাসঘাতক কারা ছিল?? 


@জামাল আনসারী

24/09/2020



দেশের আইন কি মাকড়সা জালের মতো?

 বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয় মাকড়সা জাল দেখেছো। কি সুন্দর বুনন! তাই না। কিন্তু এই জাল হল ছোট ছোট পোকা- মাকড় ধরার ফাঁদ। জালের সংস্পর্শে কোনো ছোট পোকা এলেই সেই জালে জড়িয়ে পড়ে। আর যদি একবার জালে আটকে যায়, তাহলে  পোকার চৌদ্দ গুষ্টির সাধ্য নেই, সেই অতিসূক্ষ জালের তীব্র আকর্ষণ  ছিন্ন করে ,পালিয়ে বাঁচে। তবে মজার ব্যাপার হলো এই যে, মাকড়সা জালে কখনও কোনো হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভাল্লুক, আটকে পড়ে না। কারন তাঁরা তাদের পেশী শক্তি দ্বারা অতি সহজেই জালের বন্ধন ছিন্ন করে,অবাধে,নির্ভয়ে বিচরণ করতে পারে।


দেশের আইন হচ্ছে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো।ছোট্ট কিছু পড়লে আটকে যায়, কিন্তু বড়ো কিছু জালে পড়লে জাল ছিঁড়ে ঠিকই বেরিয়ে আসে।তাই দেশের আইন দিয়ে খেটে খাওয়া, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত,গরীব মানুষ গুলোকে বিনা বিচারে, বিচারের নামে প্রহসনে দিনের পর দিন কারাগারে আটকে রাখা যায়।কিন্তু ললিত মোদি, নীরব মোদি,বিজয় মালিয়ার মতো  মহান দেশপ্রেমিক(!) মানুষরা সেই আইনের জাল ছিঁড়ে অনায়াসে বেরিয়ে বিদেশে চলে যেতে পারে। দেশের আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা ,CBI সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করেও পালিয়ে যাওয়া  ধনকুবের, শিল্পপতিদের টিকি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেন না। কেন??একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই সহজেই বুঝতে পারবে, নেতা, মন্ত্রীরা হাজার অন্যায়- অত্যাচার, দুর্নীতি, খুন, জখম, চুরি, ডাকাতি করলেও পেশী শক্তি দ্বারা  ওই আইন নামক মাকড়সা জাল ছিঁড়ে ঠিকই বেরিয়ে যায়। 


এক বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের আগে একশো ত্রিশ কোটি মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করলে, বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা দেশে নিয়ে এসে দেশের কোটি মানুষের উন্নয়ন করবে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি যে ক্রমশ রসাতলে যেতে বসেছে, তবুও বিদেশের একটিও কালো টাকা কি দেশে এসে পৌঁচেছে। না পৌঁছে নি। আর  কোনোদিনই ঐ কালো টাকা দেশে আনার কোনো ব্যবস্থায় নেওয়া হবে না। কারন সেই কালো টাকার মালিক তো আর গরিব নয়। সব  ধনকুবের, শিল্পপতি, নেতা, মন্ত্রীদের টাকা। সে হোক না কালো টাকা। তাতে কি! ঐ যে আগেই বলেছি ।দেশের আইন নামক মাকড়সা জালে তারা কোনোদিনই আটকে পড়ে না। তারা আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 

দেশের আইন তাদের জন্য নয়। দেশের আইন গরিব মানুষের জন্য....গরিব মানুষদের মারার জন্য......

মিলিয়ে দেখবে কোনো গরিব চাষি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া মাত্র হাজার দশের টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারার জন্য জেল খাটতে বাধ্য হয়।কিন্তু ললিত মোদি, নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া... এদের কত হাজার কোটি টাকা ভারতীয় ব্যাঙ্কে ঋণ আছে!! এখনও সেই টাকা কেউ পরিশোধ করে নি।তবুও তাদের জেল হয় না। কেন??

যারা হাজার কোটি টাকা চুরি করে আছে তাদের জেল হয় না, কিন্তু কোনো মানুষ না খেতে পেয়ে দোকানে সামান্য রুটি চুরি করার অপধধে জেল হয়।

আবার সবাই বলে দেশের আইন নাকি সবার জন্য সমান ! কোন মানদণ্ডে দেশের আইন সবার জন্য সমান তা আজও আমার মাথায় ঢোকে নি।

(বিঃ দ্র : আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর আমার পূর্ন আস্থা আছে)

©জামাল আনসারী

30/09/2020



বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

রবীন্দ্রনাথ

 রবীন্দ্রনাথ

by জামাল আনসারী


পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ে

      এক স্মরণীয় নাম ।

আকাশে বাতাসে মুখরিত, তব জয়গানে,

      বিশ্বকবি ,জন্মদিনে লহ প্রণাম।


তুমি শুধু হিন্দু, মুসলমানের কবি নয়, 

    মানুষের কবি,  মুক্তমনের কবি ।

ধর্মের সংকীর্ণতার নাগপাশ করে ছিন্ন,

     বিশ্ব মাঝে পেয়েছ নোবেল সম্মান। 

         বাংলা পঁচিশে বৈশাখ,জন্মদিবসে,

     কবিগুরুকে জানাই শতকোটি প্রণাম।


আজও তোমার উপেনরা সভ্য

   সমাজে সমান উপেক্ষিত, 

     অরণ্য ধবংস করে, 

         গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে, 

আদিবাসীদের নির্বাসনে পাঠিয়েছে

একদল অর্থপিশাচের দল।

   যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,

      যারা ফসল ফলায়,

        দুমুঠো ভাতের জন্য যাদের

            মাঠে মাঠে জীবন কাটে, 

দেশের ধনকুবের শিল্পপতিরা

     এই সব উপেনদের সম্পত্তি

         নামে- বেনামে করে হস্তগত।


আজও সেই বিচারের বাণী

   নিরবে নিভৃতে কাঁদে, 

      মানবতার দরজায় দরজায়...

           চিৎকার করেও মানুষের দেখা নাই । 


উগ্রবাদী ধর্মীয় বিষবাষ্পের ছোবলে,

    বিপন্ন মানব সমাজ।

        পূজার বেদী রক্তে ভেজা, 

            টুঁটি চিঁপে হত্যা হয় এখন মানবতার।


কবিগুরু, আজ শিক্ষার বড়ই অভাব, 

   পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত, 

গুটি কয়েক হাতে টিম টিম করে জ্বলে, 

     শিক্ষার আলো, জ্ঞানের মশাল।


বাঙালির চিন্তায়, চেতনায় কাব্য চর্চায়,

   সুরের ঝংকারে------

     আমি খুজেঁ পাই জীবন্ত রবীন্দ্রনাথ।

আমার হৃদয় বীণায় ধ্বনিত, 

     আজ শুধু একটাই নাম, 

        মানুষের কবি, বিশ্বের কবি

            আমার প্রানের কবি রবীন্দ্রনাথ।


09/05/2018

জামাল আনসারী