শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

গণতন্ত্র


গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক!
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সোয়ারী দুর্নীতিপরায়ণ দলতন্ত্র।
রথে চলেছে গুটিকয়ের সমাজবিরোধী,গরু ,গাধা!
গণতন্ত্র? কিসের গণতন্ত্র? কাদের গণতন্ত্র?
না। গণতন্ত্র আর এদেশে নেই।
গুন্ডাতন্ত্রের হাতেই এখন গণতন্ত্র বাঁধা।

ভোটের নামে চলছে লুটপাট,বছর বছর ধরে,
'জোর যার মুলক তার' ....
এটাই এখন দেশের গণতন্ত্র।

ভোট এখন মহোৎসব! মহান গণতন্ত্রের মেলা।
আদা জল খেয়ে নেমে নেতারা,
পায়ে ধরতেও করেনা অবহেলা।
একবার যদি নির্বাচনে জিতে যায় সেই নেতা,
আগামী পাঁচ বছর দেখাবে ,
হরির লুট, শোষণ করার নিত্য নতুন খেলা।

গণতন্ত্র এখন শিল্পপতিদের বুক পকেটে বন্দি।
বেঈমান, নেতা,মন্ত্রীরা গোপনে গোপনে,
জনগণকে ধোকা দিয়ে,কোটি কোটি কালো টাকায়
গণতন্ত্রকে বেচে দিয়েই দুর্নীতির সাথে করছে সন্ধি।

ধর্মের দগ দগে আগুনে



আধুনিক যুগের ধর্ম এই,
যারা একমুঠো পচা,বাসি খাবারের তরে
মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে 
তবুও জোটে না খাদ্য,
আর যারা চাই না কোনদিনও খেতে 
তাদেরকে আমরা দিচ্ছি যেচে,
অভুক্তকে বঞ্চিত করে সাজাইছি নৈবদ্য।

হায় রে,আমরা কেমন এ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীব!
চোখের সামনে ছটপট করতে করতে
না খেয়ে কোলের শিশুটি মরছে,
গুজবের জেরে রক্ত ঝরছে,
ধর্মের রক্তক্ষয়ী হানাহানি,
সুযোগসন্ধানী ধর্মান্ধররা,
কেউ ত্রিশুলে,কেউ চাপাতিঘাতে চালায় কুরবানি।

ধর্মের বিষবাষ্প যখন ছেয়েছে সারা দেশ,
মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে কি?
দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যাভাষণে,
তোষণ নীতি, আর হিন্দু-মুসলমানের বিভাজন
ধর্মের দগদগে আগুনে তারা ঢালছে ঘি।

ধার্মিক vs অধার্মিক



ধার্মিকের চেয়ে অধার্মিক শতগুনে ভালো। 
অন্ধকার দূর করে তারাই এনেছে আলো।।

জগতের যা ভালো সৃষ্টি ,অধার্মিকের দান।
মারামারি,কাটাকাটি ধার্মিকদের  অবদান।।

মন্দির গড়ে ধার্মিক, মন্দির ভাঙে ধার্মিক।
মসজিদ গড়ে ধার্মিক,মসজিদ ভাঙে ধার্মিক।।

তবুও ধার্মিকরাই সমাজের চোখে,হিরো- মহান।
মারামারি, ভাঙ্গভঙ্গিতে নেই,তারাই বেঈমান।।

ধর্মই মানুষকে উঁচুজাত নিচুজাতে ভাগ করে।
ধর্মের কারণেই দেখ,হাজার হাজার মানুষ মরে।।

দাঙ্গাবাজ দাঙ্গা করে,নিজের ধর্ম করে চাঙ্গা।
লাশের উপর রাজনীতি, পকেট ভরে রাঙ্গা।

ধর্মের আফিম যে খেয়েছে,সেই বনেছে ভেড়া।
কেউ দাড়ি,কেউ টিকি, কেউ হয়েছে ন্যাড়া।।

সোনার সন্ধান



জনগণের রক্ত চুষে,  জন্মেছে আগাছা, 
   গোবরজীবি অকালকুষ্মাণ্ড তারা।
         হেসো না,  বন্ধু----
                গোবরে যায় দেশপ্রেমিক চেনা।
রণে ,বনে ,জলে জঙ্গলে
  কোথাও যদি গোবরের পাও সন্ধান,
       উল্টে পাল্টে দেখ বারবার,
            ভাগ্য দেবী যদি প্রসন্ন থাকে, 
                  মিললে মিলতেও পারে সোনা।

গোবরের যে কি গুণ ?
     কি করে বোঝাব তোমায়? 
কলগেট ব্রাশ ছুঁড়ে ফেলে দাও ডাস্টবিনে,
    সকাল বিকাল গোবরে দাঁত মাজো,
       অনেক উপকার আছে তাতে, 
এইমাত্র একবন্ধু সুখবরটা দিলো আমায় ।

আসুন,  দুই হাত তুলে কীর্তন করি,
    গাহি গো মূত্রের গুণগান, 
         ভারত আবার নোবেল প্রাইজ পাবে,
            
  গো মূত্রে পেয়েছে সোনার সন্ধান।
মেয়েদের মুখে হাসিখুশি ভাব ,
    যাক্ এবার বাঁচা গেল, 
         কমবে অলঙ্কারের চড়া দাম ।
গোবরজীবি গো বিজ্ঞানীরা অমর, 
    ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে
        লিখা থাকবে তাদের নাম(?)


ধর্ম আর রাজনীতি


ধর্মের মধ্যে রাজনীতি আছে,
      রাজনীতির মাঝে আবার ধর্ম,
গরীবের মাথায় হাত বুলানো 
    দেশের নেতাদের এখন কর্ম।

যারা যত বড় অপরাধী, 
      তারাই আজ তত বড় মন্ত্রী ।
সারা দেশে একই চিত্র ,
    আছে দুই, একটি  ব্যতিক্রমী ।

মানুষ গুলো কে পশু বানালে
    তবেই করা যায় পশুর কাজ ।
গরীবের বুকের রক্ত নিংড়ে নিয়ে
    গড়ে উঠেছে নেতাদের  রাজ প্রাসাদ ।

ধর্ম আর রাজনীতি এখন
      একই মুদ্রার এপিঠ,ওপিঠ 
সারা বিশ্বে অশান্তির কারণ 
     ধর্মই   যুগে যুগে করে মারপিট।

নির্বাচন ভাই, টাকার খেলা,
    নেতাদের প্রহসন মাত্র।
শিল্পপতিরা শিক্ষক মশাই,
     নেতারা হলো অনুগত ছাত্র ।

ধর্ম আর রাজনীতি এখন
      একে অপরের সহোদর ভাই, 
এমন হীন কর্ম বাকি নেই, 
      যা ধর্ম ও রাজনীতিতে হয় নাই ।

নেতারা চাই না, শিক্ষিত সমাজ
   চাই না, জন সাধারণের ভালো।
ধর্মের অন্ধকারে ডুবে থাকুক, 
      না, জ্বলুক শিক্ষার আলো ।

ধর্ম, রাজনীতি আর দুর্নীতি
     মিলে মিশে আজ একাকার ।
শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের
  শোনা যায়, বিশ্বময় হাহাকার ।

কবিতা আক্রান্ত


মহান কবিতা দিবসে কবিতা আক্রান্ত ,
   কবি শ্রীজাত এর হলো এফ. আই. আর।
    তোমরা কি সখের কবি ?
           হাত গুটিয়ে বসে আছ ।
এখনই জানাও কবিতার তীব্র প্রতিবাদ ।
       কলম চুষে চুষে ভাবছ ,ভালোই আছি, 
বন্ধু,  এরকম হতে পারে তোমার - আমার ।
'সাহিত্য যদি সমাজের দর্পণ'
    সমাজের প্রতিচ্ছবি তাতে ধরা পড়বেই ।
           ধর্মের কদর্য রূপ কেন বাদ যাবে ?
কবি তুমি কি কাপুরুষদের ভয়ে ভীত ?
     লিখে যাও ঘুন ধরা সমাজের
            অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি সত্য আছে যত ।

এই নপুংসকের দল শক্তিশালী সূর্যকে
        আবার কি পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরাবে?
মানব সভ্যতার ইতিহাসের চাকাকে,
    এরা নিয়ে যেতে চাই,আদিম যুগের পশুস্তরে।

এই কাপুরুষদের জন্য আমরা হারিয়েছি, 
মহান বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, কোপার নিকাস
এখনই সময় বুঝে নাও, পুরনো সব হিসাব ।
হাজার কলম একসাথে  গর্জে উঠলে তবে,
 কাপুরুষের দল পালাবে লেজ গুটিয়ে সবে।

22 / 03 / 2017