রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

পার্থবাবুকে খোলা চিঠি

 #পার্থবাবুকে খোলা চিঠি,

...............

 আমি ঠিক জানি না, এই খোলা চিঠিটি আপনার কাছে অদৌও পৌঁছাবে কিনা ! তবুও আপনাকেই লিখছি।

মাননীয় প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী  আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।আমরা জানি যে, "শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি"। সেই মহান শিক্ষা দপ্তরের আপনি প্রধান, তথা শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন।  গোটা রাজ্যের সাথে আমারও শিক্ষা মন্ত্রী। এতদিন আমার ধারণা ছিল যে, যারা শিক্ষার সাথে ওতোপ্রেত ভাবে যুক্ত তারা কখনোই পাহাড়প্ৰমান দুর্নীতির সাথে যুক্ত হতে পারে না। আপনি আমার সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছেন। আপনার প্রতি  যা শ্রদ্ধা ভক্তি ছিল তা এই দুর্নীতির খবরে নিমিষেই উধাও হয়ে গেছে।


বর্তমান যুগটা হচ্ছে, ডিজিটাল যুগ, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। তাই আর কারো জানতে বাকি নেই, যে আপনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ী থেকে একুশ কোটি টাকা সহ আশি লক্ষাধিক টাকার গহনা এবং প্রায় কুড়িটি দামি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ssc পরীক্ষার কয়েকটি এডমিট কার্ড পাওয়া গেছে। 


এখন আপনি বলুন, এই অবৈধ  এক কোটি আধ কোটি নয়,একুশ কোটি টাকার উৎস কী?? আপনার বান্ধবীর বাড়িতেই বা ssc পরীক্ষার কয়েকটি এডমিট কার্ড গেল কিভাবে?? 

আপনি না বললেও রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীগন বলতে শুরু করেছে, যে এই টাকা ssc দুর্নীতির টাকা।  এই টাকা হাজার হাজার বেকার যুবকদের জমি,বাড়ি বিক্রি করা টাকা।এই টাকা গরিব মানুষের ঘাম  ঝরানো টাকা। 


আপনি দীর্ঘসময় ধরে হাজার হাজার শিক্ষিত  বেকার ছেলেমেয়েদের সাথে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। যাদের চাকুরী দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি আপনি নিয়েছেন। তাদের আপনি ভুলে গেছেন।  ঠিক খোঁজ রাখলে দেখতে পেতেন, তাদের অনেকেই চাকুরী না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।  সেই দায় আপনি কি অস্বীকার করতে পারবেন?? 


আচ্ছা, মাননীয় পার্থবাবু,আপনি তো আমাদের রাজ্যের সেরা স্কুল রামকৃষ্ণ মিশন থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।এই আপনার রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা??


যাক, আজ আর বেশি কিছু লিখে চিঠিটি দীর্ঘায়িত করতে চাই না। স্কুল সার্ভিস কমিশনের(ssc) দুর্নীতির মামলায় আপনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত চলছে। আপনি দুর্নীতি করে থাকলে শাস্তি পাবেন। আমি চাই, রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা দেরিতে হলেও সুবিচার পাক।


আপনি প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী।তাই আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ আপনি ভুল করুন,দোষ করুন আর দুর্নীতিই যায় করুন। তবুও তো আমাদের রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।

                                 ✍️জামাল আনসারী

                                       24/07/2022



শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও কিছু কথা

 


স্বাধীন ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি, তথা ভারতের পনেরো তম রাষ্ট্রপতি মাননীয়া দ্রৌপদী মুর্মুকে  আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।


 শুধু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন নয়, দ্রৌপদী মুর্মু এই জয়ে গোটা ভারতের মানুষজন খুশি হয়েছেন। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কয়েকটি পথসভা, মিছিল,পদযাত্রা বের হয়েছিল।আর হবেই না কেন?? এতো বছর পর আমাদের দেশের কোনো সরকার এই প্রথম আদিম জন জাতি গোষ্ঠী, আদিবাসী সম্প্রদায়ের কোনো মানুষকে দেশের প্রথম নাগরিক সন্মান দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বসলেন।


তিনি দেশের পনেরোতম রাষ্ট্রপতি হিসাবে কতটা সফল হবেন বা ব্যর্থ হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ঐ যে বলে না, আজকের দিনটা কেমন যাবে তা সকালের সূর্যদোয়ের পরেই জানা যায়। 

এখন আসুন,আমরা খোলা মনে, আমাদের  নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতি মাননীয়া দ্রৌপদী মুর্মুর সেই সকালটা তথা অতীত ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করি।


দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামের একটি সাঁওতালি উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।


দ্রৌপদী মুর্মু শ্যাম চরণ মুর্মুকে বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির দুটি ছেলে ছিল যারা উভয়ই মারা গেছে এবং বর্তমানে একটি মেয়ে আছে।

তিনি ১৯৯৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন এবং রায়রঙ্গপুর নগর পঞ্চায়েতের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি তফসিলি উপজাতি মোর্চার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।


উড়িষ্যা বিধান সভায় এক সময় মন্ত্রী ছিলেন এই দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সময়  সরকারের মদতে আদিবাসী দের জোর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।আদিবাসীরা একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়ায়, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। তৎকালীন উড়িষ্যা সরকারের পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়  । ফলে তিনজন আদিবাসী মারা যান। আদিবাসীরা জমি থেকে অন্যায় ভাবে বলপূর্বক উচ্ছেদ হয়।তবুও তিনি সরকারের একজন মন্ত্রী পদে বসে চুপচাপ থাকেন।পদত্যাগ তো দূরের কথা কোনো মৌখিক প্রতি বাদ ও করেননি।


 এছাড়াও  ঝাড়খন্ডে যখন বিজেপি সরকার তখন পাঁচ বছর রাজ্যপাল ছিলেন। এই রাজ্যপাল থাকা কালীন  ওই সেই সময় আদিবাসী দের স্বার্থ বিরোধী সমস্ত বিলে উনি সই করেন। মানুষ মিথ্যে কথা বলতে পারেন, কিন্তু ইতিহাস কখনও মিথ্যে কথা বলে নি। 


এখন অনেকেই আদিবাসী রাষ্ট্রপতি ,আদিবাসী রাষ্ট্রপতি বলে নৃত্য জুড়েছে তাদের ভালো করে জেনে রাখা ভালো যে, ঝাড়খন্ডে পাঁচ বছর রাজ্যপাল থাকলেও আদিবাসীদের জন্য তিনি কিছুই উন্নতি করেন নি। উপরন্তু চরম আদিবাসী বিরোধী হিসেবেই উনাকে দেখা গেছে।  আসলে নামেই মুর্মু বা আদিবাসী  কাজে মোটেই আদিবাসী নন।


©জামাল আনসারী

22/07/2022



ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও কিছু কথা

 

ভারতীয় যুক্তরাষ্টীয় কাঠামোর রাষ্ট্রপতি পদটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের সংবিধানে কেন্দ্রীয় শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হলেন রাষ্ট্রপতি। শাসন বিভাগের শীর্ষে রাষ্ট্রপতির অবস্থান। সংবিধানের ৫৩ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই ন্যস্ত থাকবে। তিনি নিজে কিংবা তার অধস্তন কর্মচারীদের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা প্রয়ােগ করেন। তিনি একাধারে শাসন বিভাগের প্রধান, অন্যদিকে আইন বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।এবং তিনিই ভারতের সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।


ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেখা যায় যে, এই রাষ্ট্রপতি পদটিতে যারা আসীন হয়েছেন, তারা সকলেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, তাদের শিক্ষা দীক্ষা পান্ডিত্য নিয়ে কারো  কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না। একটা সময় ছিল যখন একমাত্র শিক্ষিত ,সমাজ সচেতন নাগরিকদের এই মহান পদে বসানোর রেওয়াজ ছিল। ভারতের এই রাষ্ট্রপতি পদ অলঙ্কৃত করেছেন―রাজেন্দ্র প্রসাদ,সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ,ড:জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মহম্মদ হিদায়েতুল্লা(অস্থায়ী),ভি ভি গিরি,ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ,আর ভেঙ্কট রামন,কে আর নারায়ণন,এ পি জে আবদুল কালাম,প্রতিভা পাটিল,প্রণব মুখোপাধ্যায়।


 ভারতের রাষ্ট্রপতি পদটির মান সম্মানকে এক উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যেতে তারা সক্ষম হয়েছিলেন।ভারতে তো বটেই বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে এনাদের নামের খ্যাতি, কর্মের খ্যাতি শুনতে পাওয়া যায়। 


কিন্তু যখন থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কম গুরুত্বপূর্ণ বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসানো হল, তখন থেকেই রাষ্ট্রপতি পদটির গুরুত্ব ম্লান হতে শুরু হয়েছে। ভারতের প্রথম দলিত রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কবিন্দ। খুবই সম্মানীয় ব্যক্তি। তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি কি রাষ্ট্রপতি পদটির সেই অতীত মান সম্মান বজায় রাখতে পেরেছেন?? ভারতের বুকে ঘটমান নানা সমস্যা নিয়ে তিনি একদিনেও কি সংবাদিকের মুখোমুখি হয়েছেন?? সমস্যার সমাধান নিয়ে তিনি কি একটাও বিবৃতি দিয়েছেন?? 


তিনি এতো বড় একটা পদে বসে তিনি দেশের মানুষের জন্য কি করেছেন! রাষ্ট্র যখন নানা অজুহাতে আদিবাসী, দলিত, সংখ্যালঘু মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, দমন-পীড়ন চালিয়েছে, ঘর- বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে। তখন দলিত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কবিন্দ একবারের জন্যেও সেই সব অত্যাচারিত মানুষের পাশে কি দাঁড়িয়েছে ?? না। তিনি কখনও তাদের পাশে দাঁড়ায় নি। সরকারের চাটুকারিতা করতেই পাঁচ বছর কেটে গেছে। জনগণের অভাব অভিযোগ শোনার সময়ই তিনি পান নি। 

ভারতের আদিবাসীদের জল,জমি জঙ্গলের অধিকার যখন সরকার ক্ষমতায় জোরে কেড়ে নিচ্ছে, দেশের কৃষকদের হাতে না মেরে যখন ভাতে মারার জন্য তিন তিনটি কালা আইন এনেছিল, তখনও রামনাথ কবিন্দের মুখে একটিও শব্দ বের হয়নি। কেন??  


আসলে সরকার  চাই, রাষ্ট্রপতি পদে এমন লোক বসুক,যে সরকারের আজ্ঞাবহ হবে, সরকার যা বলবে রাষ্ট্রপতি তাই করবেন।রাষ্ট্রপতি হবেন সরকারের হাতের পুতুল। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে রামনাথ কবিন্দ পাঁচ বছর  কাজ করার পর অবসর নিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও এটাই সত্যি যে, বিদেশের কথা আমি ছেড়েই দিলাম, আমাদের ভারতের 99%  মানুষ উনার নামেই আজ পর্যন্ত শুনেই নি। 


এবার নাকি ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে চলেছেন, দ্রৌপদী মুর্মু।  দেখা যাক, তিনি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, কতটুকু কাজ করেন।


 তিনি কি ভারতের রাষ্ট্রপতি পদটির অতীতের গৌরবময় ইতিহাস, হারানো মান- সম্মান ফিরিয়ে আনতে পারেবেন?  তিনি কি ভারতের আদিবাসী মানুষের জল,জমি,জঙ্গলের অধিকার ফিরিযে দিতে পারবেন?  ভারতের বুকে আদিবাসী, দলিত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে, তা কি দ্রৌপদী মুর্মু কঠিন হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন?? 

দেখা যাক, এই সব প্রশ্নের উত্তর  সময়ই একদিন বলে দেবে।


রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাখি। ভারতের প্রতিটি মানুষ আপনার প্রতি অনেকে আশা,আকাঙ্খা ,প্রত্যাশা নিয়ে আগামী দিনের পথ চলার দিকে তাকিয়ে আছে।


©জামাল আনসারী 

20/07/2022



শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??

 আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??


সমীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বড়লোক। যারা করোনা সম্পর্কে খুবই সচেতন নাগরিক। টিভি, সংবাদপত্রের কল্যানে আজ কত করোনা রোগী বাড়ল, গতকাল কত করোনা রোগী বেড়েছিল, প্রায় সব খবর নখ দর্পণে রাখেন।যারা 24 ঘন্টায় মধ্যে 18 ঘন্টা মাক্স ব্যবহার করেন,ঘনঘন হাতে সেনিটাইজার নেয়,এমনকি কোথাও বাসে বা ট্রেনে এমনকি প্রাইভেট গাড়িতে গেলেও সঙ্গে করে বোতল বোতল সেনিটাইজার নিয়ে যান ।যারা সমাজে VIP বলে পরিচিত।এমনকি যারা অভিনেতা বা অভিনেত্রী তারায় বেশি বেশি করে করোনা আক্রান্ত হয়। VIP ব্যক্তিরা কেউ একবার, কেউ দুবার কেউ তিনবার করে করোনা আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ,দ্বিতীয় ডোজ বহুদিন পূর্বেই নেওয়া হয়ে গেছে। তবুও এরা বারবার করোনায় আক্রান্ত হয়। এবং ভবিষ্যতেও এদের করোনায় বা অমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 99.99%.....


 অন্যদিকে সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, যারা করোনা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সচেতন নয়। মাক্স পরেন না ।যাদের সেনিটাইজার কেনারও পয়সা নেই। এদের 90% বাড়িতে টিভি নেই। এরা সংবাদপত্র পড়েন না,বলে আজ কত করোনা রোগী বাড়ল, গতকাল কত করোনা রোগী বেড়েছিল, তার কোনো হিসেব রাখার প্রয়োজন মনে করেন না। ।ঘনঘন হাতে সেনিটাইজার নেয় না।এমনকি কোথাও বাসে বা ট্রেনে গেলেও সঙ্গে করে বোতল বোতল সেনিটাইজার নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য এদের নেই ।যারা সমাজে শ্রমজীবী, লেবার, দিনমজুর নামে  পরিচিত।যারা গ্রামে বাস করেন ,তাদের কিন্তু সেরকমভাবে করোনা  হয় না। দূরবীন দিয়ে খোঁজা খুঁজির পর যে দু একটা গ্রামের দিকে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়, সেটা পার্সেন্টেজে ধরা যায় না । এদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা 0.01%...


এবার আপনি হিসেব করে দেখুন। আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??


(বিঃদ্রঃ―এই সমীক্ষাটি আপনার পছন্দ না হলে আপনি নিজে সমীক্ষা করে হাজার বার দেখতে পারেন।)


©জামাল আনসারী 

08/01/2022



রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

এক-এ চন্দ্র, দুই-এ পক্ষ

 এক-এ চন্দ্র, দুই-এ পক্ষ

....জামাল আনসারী

একটি শিশুর প্রথম লেখাপড়ার হাতেখড়ি বর্ণ পরিচয়। সাথে সাথে শিশুটি বিভিন্ন সংখ্যা গোনা শিখতে থাকে।এ গুলো শিশুর সহজ সরল কোমল মনে এবং বিশ্বাসে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।এই বর্ণ পরিচয় ও বিভিন্ন সংখ্যা গোনার সময় থেকেই জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে শিশুর মনে কিছু আজগুবি, অবিশ্বাস্য, পৌরাণিক ধর্মীয় কুসংস্কারের ধ্যান ধারণা মস্তিষ্কের রন্ধে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আসুন আমরা খোলামেলা মনে সেগুলো আলোচনা দেখি......

১- এক- এ চন্দ্র।চন্দ্র মানে চাঁদ। আমরা সকলেই জানি আমাদের পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হল চাঁদ। তাহলে এক-এ চন্দ্র বলতে একটি চাঁদকে বোঝাচ্ছে। এটা ঠিক আছে।কোনো ভুল নেই।

২- দুই-এ পক্ষ। পক্ষ মানে এখানে কোনো বর পক্ষ বা কনে পক্ষের কথা বলা হয়নি,শত্রুপক্ষ, মিত্রপক্ষ নয় ।বাংলা অভিধানে পক্ষ শব্দের অর্থ দেওয়া আছে.."চাঁদের বৃদ্ধিকাল বা হ্রাসকাল (শুক্লপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ); প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত সময়; মাসার্ধ, পনেরো দিন (তিনি এক পক্ষকাল বিদেশে থাকবেন)।"

এখানে দুই-এ পক্ষ বলতে  মাসের দুটি (মাসার্ধ)পক্ষকে বোঝানো হয়েছে। এই পক্ষ দুটি হল কৃষ্ণপক্ষ এবং শুক্লপক্ষ।

৩-তিন-এ নেত্র। নেত্র শব্দের অর্থ সংসদ বাংলা অভিধানে লেখা আছে চক্ষু,...

এখন তিন-এ নেত্র বলতে এখানে তিনটি চক্ষুর কথা বলা হয়েছে। সমস্যাটি এখানেই।গোটা বিশ্ব তন্ন তন্ন করে খোঁজ করলেও কোনো মানুষ তো দূরের কথা। গরু,ছাগল,হাঁস মুরগী, কোনো পশু পাখির মধ্যে কারোও তিনটি চোখ খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে আজগুবি, অবিশ্বাস্য, গল্পের গরু গাছে চড়ে মার্কা পৌরাণিক গল্প গুলো টেনে আনা হয়েছে। পৌরাণিক গালগল্পে আছে পৃথিবীর যতসব আষাঢ়ে গল্প গুলোর আঁতুরকুড়।পুরানেই পাওয়া যায় কারো জন্ম মাথা থেকে তো কারো জন্ম পা থেকে। কেউ উরু থেকে, কেউ আবার বাহু থেকে জন্ম গ্রহন করে। যতসব হাস্যকর অবৈজ্ঞানিক কান্ডকারখানা! এমন কি চোখের জল থেকে; কান থেকেও মানুষের জন্ম হওয়ার কথা পুরানে লেখা আছে। সেই পৌরাণিক কাহিনীতে শিবের তিনটি চোখের কথা বলা আছে। তাছাড়া কিছু পুরানে দুর্গার তিনটি চোখের কথা বলা হয়েছে।এটা নিয়েও নানা মুনির নানা মত। বির্তকিত বিষয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিশু মনে কেন এই অবৈজ্ঞানিক, বিতর্কিত বিষয় গুলো ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এর উদ্দেশ্যই বা কি তা পাঠকদের ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।

৪- চার এ বেদ। আমরা জানি বৈদিক যুগে চারটি বেদ ছিল। এই চারটি বেদ হল...1) ঋক 2) সাম 3)যজু 4) অথর্ব।  ঘুরে ফিরে সেই পৌরাণিক বিষয়। ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের কি এগুলো জানা খুব প্রয়োজন? পাঠকগণ একটু ভেবে দেখবেন। 

৫-পাঁচ এ পঞ্চবাণ। বাণ শব্দের অর্থ বাংলা অভিধানে লেখা আছে,ধনুক থেকে যে তীক্ষ্ণাগ্র অস্ত্র নিক্ষিপ্ত হয়, তির, শর।হিন্দু ধর্ম অনুসারে কামদেব অথবা মদন দেবের পাঁচটি বানের কথা বলা হয়ে থাকে। এই পাঁচটি বাণ হল...১) সম্মোহন 2)তাপন 3)শোষণ 4)উন্মাদন 5) স্তম্ভন। এখানেও সেই সহজ সরল শিশুর মনে ও বিশ্বাসে ধর্মীয় বিষয় পরিকল্পনা মাফিক  ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে শুরু হয় ধর্মীয় কুসংস্কারের পাঠ। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়, এযাবৎ পৃথিবীতে লড়াই ঝগড়া করে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার সংখ্যাধিক্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধর্মের কারনে। তাই ছোট্ট ছোট্ট সহজ সরল শিশুদের লেখাপড়ার হাতেখড়িতেই ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ কেন?

৬- ছয়-এ ঋতু।আমরা যারা ভূগোল বই পড়েছি,তারা সময় জানি যে, গোটা বছরকে ছয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। এই ছয়টি ঋতু হল... 1)গ্রীষ্ম 2) বর্ষা 3) শরৎ 4) হেমন্ত 5) শীত 6) বসন্ত। এটা সত্যি।এটা মানতে কারো অসুবিধা নেই।

৭- সাত-এ সমুদ্র।বাংলা অভিধানে সমুদ্র শব্দের অর্থ দেওয়া আছে..সাগর,অর্ণব,দরিয়া,জলধি,বারিধি,অম্বুনিধি,প্রচেতা,জলেন্দ্র,জলেশ্বর,জলারণ্য,জলধর,নীলাম্বু,মকরালয়,মকরাকর,নীরধি,পয়োধি,জলাধিপ,বারিধর,বারিনিধি,বারীন্দ্র,বারীশ, প্রভৃতি। 

এখানে সাত-এ সমুদ্র বলতে সাতটি সমুদ্র বা সাগরের কথা বলা হয়েছে। এই সাতটি সমুদ্র কোথায় অবস্থিত? বিভিন্ন দেশের ভূগোল বইয়ে খোঁজ করলে দেখা যাবে। মহাসাগর আছে, সাগর আছে ,উপসাগর আছে। কিন্তু কোনোটিই সংখ্যায় সাতটি নয়।এই পৃথিবীতে সমুদ্র বা সাগরের সংখ্যা মোট সাতটি নয়। আরো বেশি। উইকিপিডিয়া অনুসন্ধান করলে অনেক সাগর বা সমুদ্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন..

লোহিত সাগর। বঙ্গোপসাগর। আরব সাগর।তিমুর সাগর।জাপান সাগর।দক্ষিণ চীন সাগর। জাভা সাগর। মৃত সাগর।বেরিং সাগর। কৃষ্ণ সাগর।ভূমধ্যসাগর প্রভৃতি।কিন্তু সাত-এ সমুদ্র এগুলো নয়।



সাত-এ সমুদ্র হল,আমাদের দেশের পুরাণে বর্ণিত  সাতটি সমুদ্রের নাম। এগুলি হল –1) লবণ 2) ইক্ষুরস 3)সুরা 4)ঘৃত 5)দধি 6)ক্ষীর 7)মিষ্টি 

হ্যাঁ। এগুলিকেই সমুদ্র বলে মানতে হবে।শিখতে হবে। বাচ্চাদের শেখাতে হবে। আচ্ছা, শিশুদের  সংখ্যামালা  শেখার সাথে সাথে  এই ভুল ধ্যান ধারণা গুলি কেন শিখতে হবে? সচেতন পাঠকদের এটাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।


৮ - আটে অষ্টবসু। অষ্ট বসু মানে আট জন বসুর কথা বলা হয়েছে।মহাভারত অনুযায়ী দক্ষ রাজার কন্যা বসুর গর্ভজাত আটপুত্রকে বলা হয় অষ্টবসু। তাঁরা হলেন....1) ধর  2) ধ্রুব 3)সোম 4)অহ 5) অনিল 6)অনল 7)প্রত্যুষ 8)প্রভাস বা দ্যু। বলা হয় এই অষ্টবসুরাই ইন্দ্রের সহকারী, পরবর্তীতে তারা বিষ্ণুর সহকারী হন।

অষ্টবসুর এক বসু প্রভাস বা দ্যু যিনি মাতা গঙ্গা ও শান্তনুর পুত্র রূপে দেবব্রত নামে মর্ত্যে জন্মগ্ৰহণ করেন । পরে তার ভীষণ প্রতিজ্ঞার কারণে ভীষ্ম নামে পরিচিত হন‌।


বৃহদারন্যক পুরাণ অনুযায়ী অষ্ট বসু হচ্ছে.... 1)পৃথিবী 2)অগ্নি 3)বায়ু 4)অন্তরীক্ষ 5) আদিত্য 6)চন্দ্রমা 7) নক্ষত্রাণি 8) দ্যু।

এখানেও সেই বির্তকিত বিষয়ের অবতারণা। একটার সাথে একটার কোনও মিল নেই!তবুও শিখতে হবে।পড়তে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে! কিন্তু কেন??

৯- নয়-এ নবগ্রহ।নবগ্রহ মানে নয়টি গ্রহ।বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে নয়টিগ্রহের কথা বলা হয়েছে ।সেগুলি হল রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু।

এখানে রবি অর্থাৎ সূর্যকে পুরানে গ্রহ বলা হয়েছে। কিন্তু রবি তো একটি নক্ষত্র। আমরা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে শিশুদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছি। তাছাড়া রাহু ও কেতু নামে  কোনো গ্রহের  অস্তিত্ব এই সৌরজগতে নেই। তবুও আমরা নয়টি গ্রহের মধ্যে রাহু কেতুকে রেখেছি। কারন পুরানে আছে। তাই রাহু, কেতু কে গ্রহ বলেই মানতে হবে।পড়তে হবে।শিখতে হবে।বাচ্চাদের শেখাতে হবে। কিন্তু কেন??

হিন্দু ধর্মের পুরাণ অনুসারে, "সমুদ্র মন্থনের সময় রাহু (স্বরভানু) নামক এক অসুর লুকিয়ে দিব্য অমৃতের কয়েক ফোঁটা পান করে। সূর্য্য ও চন্দ্রদেব তাকে চিনতে পেরে মোহিনী অবতাররূপী ভগবান বিষ্ণুকে জানায়। তৎক্ষণাৎ,অমৃত গলাধঃকরণের পূর্বেই বিষ্ণু আপন সুদর্শন চক্রের মাধ্যমে রাহুর ধড় থেকে মুন্ড ছিন্ন করে দেন। অমৃত পানের জন্য মুন্ডটি অমরত্ব লাভ করে এবং এভাবেই রাহু গ্রহটির উৎপত্তি হয়; (এই ভাবে কি কোনো গ্রহের জন্ম হতে পারে ?) বাকী মুন্ডহীন দেহটির নাম হয় কেতু। সূর্য্য ও চন্দ্রের প্রতি বিদ্বেষের কারণে বছরের নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাহু এদেরকে গ্রাস (গ্রহণ) করে ফেলে। কিন্তু এই গ্রহণের পর সূর্য্য ও চন্দ্র রাহুর কাটা গ্রীবা থেকে আবার বেরিয়ে আসে।এই ভাবেই সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ হয়।" যা একটি অবৈজ্ঞানিক মতবাদ। 


আমরা ভূগোল বইয়ে পড়েছি সৌরমণ্ডলের কথা।সৌরমন্ডলে যে নয়টিগ্রহের নাম রয়েছে সেগুলি হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি,শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লুটো। যদিও তার মধ্যে বর্তমানে প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্লুটোকে বলা হয় বামন গ্রহ। ভেবে দেখুন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানের  অভূতপূর্ব উন্নতির পরও আমরা কি পৌরাণিক গালগল্প গুলো মানব না বিজ্ঞান মানব ! বাচ্চাদের স্বার্থে এ কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনার!

১০-দশ-এ দিক।দশটি দিকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দশটি নাম  হল পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈঋত, উর্ধ এবং অধঃ।... এটা সত্যি। তাই এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। 

সময়ের সাথে বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে চলায় বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নে উদ্ধৃতি করে এই লেখা শেষ করছি।


"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে

সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে;

যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়

পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।"



ঋণ স্বীকার।

সংসদ বাংলা অভিধান।

বাংলা অভিধান।

কয়েকটি পুরাণ গ্রন্থ।

উইকিপিডিয়া।



বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

মোদী সরকার কি কৃষক দরদী সরকার ?


কেন্দ্রের মোদি সরকার কি কৃষক-শ্রমিক দরদী সরকার??

জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার যে সবসময় জনগণের সরকার হবে, তা নাও হতে পারে।

কেন্দ্রের মোদি সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু দেখুন সেই সরকার যতগুলো নতুন আইন এনেছেন ।তার একটাও কি জনগণের ভালোও জন্য....??
কেন্দ্রের আনা কৃষি বিল― কৃষক বিরোধী বিল।
কেন্দ্রের আনা নাগরিকত্ব বিল ― ভারতের নাগরিক বিরোধী।
কেন্দ্রের আনা চিকিৎসা বিল ― আধুনিক চিকিৎসা বিরোধী।
তাহলে এই আইন গুলো কাদের ভালোর জন্য??

কৃষি বিল যদি কৃষকদের মঙ্গলের জন্য, কৃষকদের ভালোর জন্য হতো , তাহলে দেশব্যাপী এতো কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন হত না। ?কৃষি বিলের বিরুদ্ধে দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে আন্দোলনে নেমেছে। তাহলে কার স্বার্থে মোদি সরকার এই কৃষি বিল পাশ করল??

শীতকালে  নেতা মন্ত্রীরা যখন লেপের নীচে আরামে নিদ্রামগ্ন ।সেই সময় শীতের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই দিল্লির রাজপথে দিন রাত্রি এক করে  কৃষকরা কালা আইনের বিরোধিতা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ এই কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। অনেকে সরকারের দেওয়া সম্মানীয় উপাধি , পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে এই কৃষি আইনের প্রতিবাদ করছে। তবুও মোদি সরকারের  কিছু আসে যায় না।
কারন মোদি সরকার গরিব বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার কৃষক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার শ্রমিক বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার আদিবাসী বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিরোধী সরকার।
মোদি সরকার দলিত বিরোধী সরকার।

তাই কৃষক আন্দোলন এক মাস পেরিয়ে গেলেও মোদিজী কৃষকদের প্রতি নূন্যতম সম্মান জানিয়ে আলোচনায় একবারও  বসেনি। কৃষকের ন্যায্য দাবিকে মূল্য দিয়ে কৃষক বিল প্রত্যাহার করে নি।
তবে হ্যাঁ। মোদিজী দেশের অন্নদাতা কৃষকদের কাছে না গেলেও  তাঁর সরকারের প্রাণভোমরা আম্বানির ছেলে না নাতি কোন নার্সিংহোমে হয়েছে, সেখানে গিয়েছিলেন। আর যাবেই না কেন?? দেশের ধনকুবেররাই তো সরকারের নিয়ন্ত্রক!! 

অতিমারি - মহামারিতে দেশের মানুষ সর্বস্বান্ত। ঘরে ঘরে অর্থকষ্ট। কৃষক- শ্রমিক- যারা দিন আনে দিন খাই, সেই সমস্ত মানুষের যে কি কষ্টে দিন যাচ্ছে! তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই ভালো জানে। অতিমারি ক্লিষ্ট সময়ে, দেশের অর্থনীতি যখন প্রায় কোমায় চলে গেছে,সেই সময়  এক হাজার কোটি টাকা বাজেট পেশ করে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কার স্বার্থে??

©জামাল আনসারী
16/12/2020



ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী ?

ভারতের কৃষকরা কি দেশদ্রোহী??

ভারতের 70% মানুষ কৃষিজীবী। কৃষিই তাদের বাঁচার একমাত্র রসদ। যে বছর ভালো ফসল হয়, সে বছর কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর ভালো ফসল না হলে কৃষকের মাথায় হাত!! কি করে খেয়ে পরে দিন যাবে সেই চিন্তায় দিন কাটে,রাত কাটে। সাধারণত কৃষকরা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যে থাকে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের হাতে না মেরে ভাতে মারার জন্য  কৃষক বিরোধী বিল এনেছে। এরপরের কি কৃষকরা চুপ করে থাকবে??

দেশের কৃষকরা সম্মিলিত ভাবে সারা দেশব্যাপী এই কালা কৃষক আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে। দিল্লির রাজপথে খোলা আকাশের নীচে প্রচন্ড শীতের দুঃখ কষ্ট সহ্য করেই  লক্ষ লক্ষ কৃষকরা আন্দোলনে সামিল হয়েছে ।এই আন্দোলন আজ 30 দিনে পড়ল।  এই আন্দোলনের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করে মোদী সরকারের দু চোখের ঘুম উড়ে গেছে। তাই গোদি মিডিয়া সরকারকে বাঁচাতে বলছে কৃষকরা দেশদ্রোহী। আসলে দেশের যারা ভালো চায়, দেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে, তারাই এখন সরকারের চোখে দেশদ্রোহী, আর যারা দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করছে আর বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তারায় দেশপ্রেমিক।

©জামাল আনসারী
16/12/2020



বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

উত্তরপ্রদেশের দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকি কি ন্যায্য বিচার পাবে??

 মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উত্তরপ্রদেশের ভোগী(বেশির ভাগ সচেতন ভারতীয় নাগরিক তাই বলেন) আদিত্যনাথ কতখানি যোগ্য তা আজ দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার । তবুও যারা এখনও গোমূত্রের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে দিবানিদ্রায় মগ্ন, তারা দেখতে পাবে না। কারণ তারা নিশাচারী। তাদের গোপন কাজকর্ম (কুকর্ম) সফল করতে রাতের অন্ধকারেই উপযুক্ত। 


মাত্র কয়েক বছরের সুশাসনে গোটা উত্তরপ্রদেশটাকেই যোগী রাম রাজ্য বানিয়ে ফেলেছে। ভারতের ক্রাইম রেকর্ড বলছে, গোটা ভারতের মধ্যে যোগীর রাজ্য নারী ধর্ষণের মুক্তাঞ্চলে পরিনত হয়েছে। ধর্ষণের রাজধানী। আর হবেই না কেন?  রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বড় বড় নেতাদের আশীর্বাদে বেড়ে ওঠে এক একজন গ্যাংস্টার। সত্যি বলতে এই গ্যাংস্টার রাই রাজনৈতিক দলের মেরুদন্ড। তারাই হচ্ছে যত কুকর্মের নাটেরগুরু।


কিছু কিছু ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেই, তখন জানা যায়,ফল্গুধারার মতো দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি কতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঊনিশ বছরের দলিত তরুণী মনীষা বাল্মীকির ধর্ষণের ঘটনা তারমধ্যে একটি। এটাকে শুধুমাত্র ধর্ষণের ঘটনা বললে হবে না। তরুণী বোনটির প্রতি অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বীভৎস, ভয়াবহ ছিল যে সোশাল মিডিয়া বা টিভিতে শুনে কোনও সুস্থ নাগরিক স্থির থাকতে পারবে না।  জানা যাচ্ছে এই ধর্ষণের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের চারজন উচ্চবর্ণের ছেলে জড়িত। যে নামগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, সেই কুলাঙ্গাররা হল,লবকুশ, সন্দীপ, রবি আর রামু। তারা চারজনই ধর্ষণের পর প্রমান লোপাটের চেষ্টা করেছে। তাই তারা প্রথমেই ঠান্ডা মাথায় দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মীকিকে  হত্যা করে। জিভ পর্যন্ত কোনো ধারালো অস্ত্রের দ্বারা কেটে ফেলে। ধর্ষকদের পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটির কন্ঠনালী প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষে পনেরো দিন পর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে  হার মানেন মনীষা বাল্মীকি। 


এমন নিকৃষ্টতম ধর্ষণের ঘটনায় গোটা দেশ অপরাধীদের বিচার চেয়ে উত্তাল।  সবাই দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি চাই।  হ্যাঁ আমিও চাই। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি। অনেকে বলেন, দেশে কঠিন আইন আনতে হবে। তবেই ধর্ষণ কমবে। নির্ভয়া কাণ্ডের পর নতুন আইন তৈরি হল। কিন্তু ধর্ষণের সংখ্যা কমে নি।তাই আইন এনে কিছুই হবে না। দরকার মানসিকতা পরিবর্তন।তবে আমার ব্যক্তিগত মত, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম কাজে জড়িতদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কাজ হবে না।তাদের প্রকাশ্যে অন্ডকোষ সমেত লিঙ্গ কেটে ফেলতে হবে। তবেই যদি কিছু কাজ হয় তো হবে।


আসল নাটক শুরু হল এরপর। আমরা যতই শাস্তি চাই, শাস্তি চাই বলে চিৎকার করি না কেন! যারা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার অধিকারী। তারা কোনো এক অদৃশ্যে আঙ্গুলি নির্দেশে  অপরাধীদের আড়াল করার জন্য আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। কারন তারা উচ্চবর্ণের। তাই গোদি মিডিয়া চুপ। আইটি সেল চুপ। শাসকের কাছে বুদ্ধি বন্ধক রাখা বুদ্ধিজীবীরা চুপ।কারন দোষীদের মধ্যে একজনের নামও মুসলিম নেই। জটিল ভগাংশের অংক না কোষলেও তারা জানে এতে তাদের লাভ নেই। তাই হৈ চৈ করে প্রতিবাদ করে কি হবে? হায় রে বুদ্ধিজীবী!!


অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সুপার ভিকরান্ত ভির তার তদন্ত করে তার রিপোর্ট এ জানিয়েছে, মনীষা বাল্মীকিকে আদৌ ধর্ষণ করা হয়নি। কারন মেয়েটির শরীরে কোনরূপ ধর্ষণের বা শ্লীলতাহানির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া মেয়েটির জিভ নাকি কেটে ফেলা হয়নি ।সেটি অক্ষত আছে।  মেরুদন্ডও নাকি ভেঙে যায় নি। বাহ্ রে বাহ্ পুলিশ সুপার!!


এতকিছু জানার পরেও অপরাধীদের কঠিন শাস্তি চাইছি।তবে ঐ যে ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। আমারও ভয় হয়, কি জানি  মনীষা বাল্মীকি ন্যায্য বিচার পাবে কিনা! কারন টাকার কাছে, ক্ষমতার কাছে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশা এই পোড়া দেশে খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।


তবুও আশা রাখতে হয়।একদিন দোষীদের শাস্তি হবেই।

#justiceformanishabalmiki

©জামাল আনসারী

01/10/2020



বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফিরে দেখা―ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর

 আমার স্কুলের ইতিহাসের স্যার ছিলেন মুরুলি স্যার। তিনি খুব সুন্দর করে ইতিহাস পড়াতেন।একদিন তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্কে ক্লাসে  আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই দিনের আলোচনার  সব কিছু মনে রাখতে না পারলেও একটি কথা আমার আজও মনে পড়ে। সেটি হল " বণিকের মানদন্ড দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে।"

আমরা সকলেই জানি যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শুধুমাত্র ব্যবসা করতে এসেছিল। কিন্তু কালক্রমে সেই কোম্পানিই গোটা ভারতের শাসন ক্ষমতা দখল করেছিল।  দেশকে শোষণ করে আখের ছিবড়ায় পরিণত করেছিল।  বণিকের মানদন্ডকে রাজদণ্ডে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল,আমাদের দেশেরই মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি। 


 দেশের মানুষ ইতিহাস থেকে কিছুই শিক্ষা নেয় নি।  শিক্ষা নিলে আজ দেশের এই করুন অবস্থা হত না। 


বর্তমানেও তো স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। এরাই দেশের সম্পত্তি হস্তান্তর করে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আবার শিল্পপতিরা জনগণের ঘাড় মটকে তাদের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় করে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে।


যেদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা করতে ভারতে এল। সেদিন কোনও ভারতীয় কি জানতো সেই কোম্পানিই একদিন ভারতের দন্ড মুন্ডের কর্তা বিধাতা হয়ে উঠবে! 


বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। "গরিবের কথা বাসি হলে মিঠা লাগে।"

মিলিয়ে দেখবেন, এভাবে চললে কয়েক বছর পর আম্বানি, আদানি প্রভৃতি শিল্পপতিরা গোটা দেশের ক্ষমতা দখল করবেই। আর তারপর ঘটবে মিরাকেল! আখ কলে যেভাবে আখ পেষায়(মাড়াই) করা হয়, সেভাবেই জনগণকে পিষে মারবে। তখনই সাধারণ মানুষের চেতনা ফিরবে। স্পষ্ট বুজতে পারবে দেশের বিশ্বাসঘাতক কারা ছিল?? 


@জামাল আনসারী

24/09/2020



দেশের আইন কি মাকড়সা জালের মতো?

 বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয় মাকড়সা জাল দেখেছো। কি সুন্দর বুনন! তাই না। কিন্তু এই জাল হল ছোট ছোট পোকা- মাকড় ধরার ফাঁদ। জালের সংস্পর্শে কোনো ছোট পোকা এলেই সেই জালে জড়িয়ে পড়ে। আর যদি একবার জালে আটকে যায়, তাহলে  পোকার চৌদ্দ গুষ্টির সাধ্য নেই, সেই অতিসূক্ষ জালের তীব্র আকর্ষণ  ছিন্ন করে ,পালিয়ে বাঁচে। তবে মজার ব্যাপার হলো এই যে, মাকড়সা জালে কখনও কোনো হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভাল্লুক, আটকে পড়ে না। কারন তাঁরা তাদের পেশী শক্তি দ্বারা অতি সহজেই জালের বন্ধন ছিন্ন করে,অবাধে,নির্ভয়ে বিচরণ করতে পারে।


দেশের আইন হচ্ছে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো।ছোট্ট কিছু পড়লে আটকে যায়, কিন্তু বড়ো কিছু জালে পড়লে জাল ছিঁড়ে ঠিকই বেরিয়ে আসে।তাই দেশের আইন দিয়ে খেটে খাওয়া, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত,গরীব মানুষ গুলোকে বিনা বিচারে, বিচারের নামে প্রহসনে দিনের পর দিন কারাগারে আটকে রাখা যায়।কিন্তু ললিত মোদি, নীরব মোদি,বিজয় মালিয়ার মতো  মহান দেশপ্রেমিক(!) মানুষরা সেই আইনের জাল ছিঁড়ে অনায়াসে বেরিয়ে বিদেশে চলে যেতে পারে। দেশের আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা ,CBI সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করেও পালিয়ে যাওয়া  ধনকুবের, শিল্পপতিদের টিকি পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেন না। কেন??একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই সহজেই বুঝতে পারবে, নেতা, মন্ত্রীরা হাজার অন্যায়- অত্যাচার, দুর্নীতি, খুন, জখম, চুরি, ডাকাতি করলেও পেশী শক্তি দ্বারা  ওই আইন নামক মাকড়সা জাল ছিঁড়ে ঠিকই বেরিয়ে যায়। 


এক বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের আগে একশো ত্রিশ কোটি মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করলে, বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা দেশে নিয়ে এসে দেশের কোটি মানুষের উন্নয়ন করবে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি যে ক্রমশ রসাতলে যেতে বসেছে, তবুও বিদেশের একটিও কালো টাকা কি দেশে এসে পৌঁচেছে। না পৌঁছে নি। আর  কোনোদিনই ঐ কালো টাকা দেশে আনার কোনো ব্যবস্থায় নেওয়া হবে না। কারন সেই কালো টাকার মালিক তো আর গরিব নয়। সব  ধনকুবের, শিল্পপতি, নেতা, মন্ত্রীদের টাকা। সে হোক না কালো টাকা। তাতে কি! ঐ যে আগেই বলেছি ।দেশের আইন নামক মাকড়সা জালে তারা কোনোদিনই আটকে পড়ে না। তারা আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 

দেশের আইন তাদের জন্য নয়। দেশের আইন গরিব মানুষের জন্য....গরিব মানুষদের মারার জন্য......

মিলিয়ে দেখবে কোনো গরিব চাষি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া মাত্র হাজার দশের টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারার জন্য জেল খাটতে বাধ্য হয়।কিন্তু ললিত মোদি, নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া... এদের কত হাজার কোটি টাকা ভারতীয় ব্যাঙ্কে ঋণ আছে!! এখনও সেই টাকা কেউ পরিশোধ করে নি।তবুও তাদের জেল হয় না। কেন??

যারা হাজার কোটি টাকা চুরি করে আছে তাদের জেল হয় না, কিন্তু কোনো মানুষ না খেতে পেয়ে দোকানে সামান্য রুটি চুরি করার অপধধে জেল হয়।

আবার সবাই বলে দেশের আইন নাকি সবার জন্য সমান ! কোন মানদণ্ডে দেশের আইন সবার জন্য সমান তা আজও আমার মাথায় ঢোকে নি।

(বিঃ দ্র : আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর আমার পূর্ন আস্থা আছে)

©জামাল আনসারী

30/09/2020



বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

রবীন্দ্রনাথ

 রবীন্দ্রনাথ

by জামাল আনসারী


পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ে

      এক স্মরণীয় নাম ।

আকাশে বাতাসে মুখরিত, তব জয়গানে,

      বিশ্বকবি ,জন্মদিনে লহ প্রণাম।


তুমি শুধু হিন্দু, মুসলমানের কবি নয়, 

    মানুষের কবি,  মুক্তমনের কবি ।

ধর্মের সংকীর্ণতার নাগপাশ করে ছিন্ন,

     বিশ্ব মাঝে পেয়েছ নোবেল সম্মান। 

         বাংলা পঁচিশে বৈশাখ,জন্মদিবসে,

     কবিগুরুকে জানাই শতকোটি প্রণাম।


আজও তোমার উপেনরা সভ্য

   সমাজে সমান উপেক্ষিত, 

     অরণ্য ধবংস করে, 

         গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে, 

আদিবাসীদের নির্বাসনে পাঠিয়েছে

একদল অর্থপিশাচের দল।

   যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,

      যারা ফসল ফলায়,

        দুমুঠো ভাতের জন্য যাদের

            মাঠে মাঠে জীবন কাটে, 

দেশের ধনকুবের শিল্পপতিরা

     এই সব উপেনদের সম্পত্তি

         নামে- বেনামে করে হস্তগত।


আজও সেই বিচারের বাণী

   নিরবে নিভৃতে কাঁদে, 

      মানবতার দরজায় দরজায়...

           চিৎকার করেও মানুষের দেখা নাই । 


উগ্রবাদী ধর্মীয় বিষবাষ্পের ছোবলে,

    বিপন্ন মানব সমাজ।

        পূজার বেদী রক্তে ভেজা, 

            টুঁটি চিঁপে হত্যা হয় এখন মানবতার।


কবিগুরু, আজ শিক্ষার বড়ই অভাব, 

   পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত, 

গুটি কয়েক হাতে টিম টিম করে জ্বলে, 

     শিক্ষার আলো, জ্ঞানের মশাল।


বাঙালির চিন্তায়, চেতনায় কাব্য চর্চায়,

   সুরের ঝংকারে------

     আমি খুজেঁ পাই জীবন্ত রবীন্দ্রনাথ।

আমার হৃদয় বীণায় ধ্বনিত, 

     আজ শুধু একটাই নাম, 

        মানুষের কবি, বিশ্বের কবি

            আমার প্রানের কবি রবীন্দ্রনাথ।


09/05/2018

জামাল আনসারী


অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে

 অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে

by জামাল আনসারী

আশালতা,  তোমাকে ভালবেসে
  হৃদয়ে স্থান দিয়ে, আমি কী পেলাম ।
     বুকের অনল জ্বলে ধিক ধিক,
        স্বপ্ন গুলো আজ বেশ ধোঁয়াটে,
ধূপের মতো নীরবে নিঃশেষ হয়ে গেলাম।

কতবার ছুটে গেছি তোমার সুমিষ্ট ডাকে ।
  শিশিরের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়,
      কচি ঘাসে ঘাসে পা মেলি,
          স্বপ্নের পাখায় ভর করে
নির্জনে হাত টি রাখি তোমার হাতে।

বৃষ্টিবাদল দিনে সোঁদা মাটির গন্ধে
     হেঁটে চলেছি গোপন অভিসারে,
  প্রাণ খুলে তোমায় ভালোবাসি ।
মনে মনে ভাবি একান্ত আপন জন ।
   আশালতা,  আমাকে উপেক্ষা করো,
    আজ আমি বুঝতে পারি সব. ..
শুধুই ছলনা,  তুমি করো অভিনয় ।

আশালতা,  তোমাকে ভালবেসে
    হৃদয়ে জমা হলো হিমালয় সম অভিমান,
কিন্তু , আজ তুমি না ভালোবাসলেও
       আমার এই অতৃপ্ত ভগ্ন হৃদয়ে
লিখা থাকবে ছোট্ট করে তোমারই নাম ।

#জামাল আনসারী
08 / 03 / 2017

জামাল আনসারী


সময়ের সাথে সাথে

 সময়ের সাথে সাথে"

by জামাল আনসারী

তেরোটা বসন্ত কেটে গেল
দু জনের মাঝে এখন লোহিত সাগর।
তুমি আছ সেই রাজপ্রসাদে
    সোনার পালঙ্কে, এসি ঘরে।
       আমি আজও সেই অঁজ পাড়া
              গাঁয়ের ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে।
এই ছোট্ট ঘরেই তোমার কেটেছে
                   কত সোনালী বিকেল ।

এখন আর বিকেল হয় না,
     অমাবস্যার রাত্রিই থাকে।
         তোমার এখন কত দাস দাসী ?
নামী দামী কোম্পানির আসবাব পত্র,
    ঝাঁ চকচকে মার্বেল।
        ডাইনিং টেবিলে রুপোর চামচ।

তোমার কি মনে হয় না?
   সেই প্রতিশ্রুতির কথা?
        স্কুলের অফিস ঘর ।
যেখানে তুমি প্রথম হাত  রেখেছিলে হাতে।
    কম্পিত ঠোঁটের আলিঙ্গনে
           বলেছিলে, যদি পৃথিবীটাও  পাল্টে  যায় ,
                 তবুও হাতটি থাকবে তোমারই হাতে।
মনে পড়ে কি সেই পাথর  বাঁধানো নদী ঘাট?
          হাজারো পূর্ণিমার সেই একমাত্র নীরব সাক্ষী।

সময়ের সাথে সাথে কি সবাই পাল্টে যায়?
       পাল্টে গেছে সেই চড়ুই পাখিটি।
প্রতি বছরই স্কুলের অফিস ঘরে
        কাটিয়ে দিত যৌবন কাল।
সেই পাখি আজ  আর নেই,
        কোথায় চলে গেছে তাও জানি না ।
এসেছে নতুন অতিথি এক ঝাঁক কবুতর।
     তুমিও আজ পাল্টে গেছ তাই না?
            পেয়েছ রাজপুত্র,মনের মতো ঘর ।

সময়ের সাথে সাথে পাল্টায় নি শুধু আমি।
আমার হৃদয় জুড়ে তেরো বছরের স্মৃতিরা জেগে আছে।
       তুমি ভুলে গেলেও
             তারা কি আমাকে ভুলে যেতে পারে?
না,  কখনোই পারে না।
স্বপ্নের মধ্যেই আমাকে নিয়ে যাই ,
সেই পাথর বাঁধানো নদীর ঘাটে,
স্কুলের অফিস ঘরে।

স্মৃতি গুলিকে ধরে আছাড় মারতে চাই
কিন্তু কখনোই পারি না।
সময়ের সাথে সাথে সবাই পাল্টে যায়,
পাল্টায় নি শুধু আমি।

#জামাল আনসারী
25 / 04 / 2017


জামাল আনসারী



মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

কন্যা সন্তান

 কন্যা সন্তান

By জামাল আনসারী

রত্নাদেবী ঘুম থেকে উঠে সকালবেলা কাঠের পিঁড়িতে বসে শীতের রোদ পোহাতে পোহাতে শালপাতার চুরুট টানিতেছিল। যেই মাত্র অন্তঃপুরের সূতিকাগৃহ হতে খবর পেল ছোট বৌমা আবার একটি কন্যা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে, সেই মাত্র হাতে ধরা জলন্ত চুরুট টি মাটিতে পড়ে গেল।পড়ে গেলেও চুরুট থেকে তখনও ধোঁয়া বেরুচ্ছে। সেই উড্ডিয়মান ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে, মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে বিরক্তির সুরে বলিল,  "আবার কন্যা সন্তান!"
ভাবখানা এমন যেন কন্যারা মানুষ নয়।
তারপর মনের সুখে ছোট বৌমার উদ্দেশ্যে গালি দিতে লাগিলেন, "পোড়ামুখী !এর পেটে শুধু মেয়েই আছে!ছেলে নাই ।আর একটা হলেই এক গন্ডা পূর্ণ হবেক।"
মুক্ত হরিণকে আড়াল থেকে কোনো ব্যাধ তীর নিক্ষেপ করে বিদ্ধ করিলে, হরিণের যেমন যন্ত্রণা হয় ,তেমনি শাশুড়ির কথাগুলি অন্তঃপুরে সদ্য কন্যা সন্তানের জননী সীতার বুকে এসে বিঁধল।

তবুও সীতা কোন প্রতিবাদ করিল না ।মুখ বুজে সব সহ্য করিল।গায়ে জড়ানো মলিন কাপড়ের একটি খুঁট ধরে দুই চোখের জল মুছে বলিল, "হে ঠাকুর!আমি কি ইচ্ছা করে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছি?  কন্যার জন্ম দেওয়া কি অপরাধ? তুমি ন্যায্য বিচার করো ঠাকুর।"

যে সদ্যজাত  কন্যা সন্তান কে কেন্দ্র করে রত্নাদেবীর সদা হাস্য রত মুখটা এখন পাংশু, বিবর্ন। সেই ফুটফুটে কন্যাটি মায়ের বুকে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে ভাবছে, এই পৃথিবীটা মনে হয় তার মায়ের মুখের হাসির মতোই সুন্দর ও পবিত্র।



মা কালীর দিব্যি বলছি

 মা কালীর দিব্যি বলছি

By জামাল আনসারী

"বাবা,ও বাবা, ওঠো।" মদন কাকা ডাকতে এসেছে।
ছেলের ডাকে রবিবাবু ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে চোখ কচলাতে কচলাতে কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করলেন, "কোন মদন রে?"এতো সকালেই ডাকছে!
... "সেই মদন কাকা গো! যে আমার চাকুরিটা করে দেবে বলেছিল।" তাড়াতাড়ি ছেলেটি বলে ফেলে।

...ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে রবিবাবু ফিক করে হেসে অন্যমনস্ক ভাবে বলল, "ও বুঝেছি। মদন চৌধুরী। আমাদের পঞ্চয়েত এর প্রধান। গত ইলেকশনে ভোটের সময় বলেছিল,ছেলের চাকুরী করে দেব। ভোটে জিতে আর কোনোদিন দেখা করেনি। আজ  সাত সকালেই এসেছে। তাহলে নিশ্চয় ভালো খবর আছে।  যাক এতদিনে ঈশ্বর মুখ তুলে চাইল।"

দেরি না করে ছেলেকে বলে পাঠালো ,"তোর মদন কাকাকে কাঠের পিঁড়িটাই বসতে দে। আমি এখুনি যাচ্ছি।"

রবি বাবু বিছানা ছেড়ে লুঙ্গিটা ভালো করে পরে, ঘর থেকে গলা খাঁকারী দিয়ে বেরুতেই মদন চৌধুরী কাঠের পিঁড়ি থেকে উঠে হাতজোড় করে বললেন, "নমস্কার! নমস্কার রবি দা। ভালো আছেন তো!

রবিবাবুও প্রতি নমস্কার জানিয়ে বলে, "তোমাদের দয়ায় ভালোই আছি।তবে ছেলের চাকুরী করে দেবে বলেছিলে, চাকরির ব্যবস্থা কি হয়েছে?"

..."না। না। রবি দা। এই বারে ভোটে জিতালেই তোমার ছেলেকে আগে চাকরি দেব।  মা কালীর দিব্যি বলছি.....


জামাল আনসারী
 


বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০

সমাজিক নাটক বাল্যবিবাহ

সামাজিক নাটক বাল্য বিবাহ।

রচনায় : জামাল আনসারী


নাটকটি অভিনয় করেছেন মুর্শিদাবাদের Fatullapur sashimoni High school এর ছাত্র ছাত্রী বৃন্দ।
যে সমস্ত ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নাটকটি অভিনীত হল, .... সেই সমস্ত কলা কুশলীদের আমার অন্তরের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।



বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর ,স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী ভাতা দেওয়ার ফলে সমাজে  বাল্য বিবাহ  অনেকটা কমে এসেছে। তবুও সমাজে কোথাও প্রকাশ্যে,

আবার কোথাও লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই নাটকে মূলত আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..

👉প্রথমতঃ সমাজে ছেলেমেয়ে যে দুই সমান তার একটা বার্তা দেওয়া ।


👉দ্বিতীয়তঃ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে  সচেতন করা ।


 👉তৃতীয়তঃ মেয়েদের লড়াক্কু  মনোভাব তৈরি করা ।


 আপনারা নিশ্চয় জানেন যে,বাল্য বিবাহ আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ। মেয়ের বয়স 18 বছর না হলে আপনারা কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন  না।বাল্যবিবাহ  শুধু একটি মেয়ের উপর নয়, এটি সমাজ তথা দেশের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।তাই এ ব্যাপারে  আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। 




নাটক: বাল্যবিবাহ
এই নাটকের ভিডিওটি দেখতে চাইলে youtube এর নীচের লিঙ্কটি খুলুন...
👇👇👇

নাটক: বাল্য বিবাহ

নাটক : বাল্যবিবাহ


গত 04/02/2020 আমার পূর্ণপানি জুনিয়র হাই স্কুলে সফলভাবে মঞ্চস্থ  হয়ে গেল আমার লেখা প্রথম নাটক... "বাল্যবিবাহ"। যে সকল ছাত্র ছাত্রী অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটিকে বাস্তব রূপ দিল, তাদেরকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানাই। তাদের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।


বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দপ্তর ,স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী ভাতা দেওয়ার ফলে সমাজে  বাল্য বিবাহ  অনেকটা কমে এসেছে। তবুও সমাজে কোথাও প্রকাশ্যে,

আবার কোথাও লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এই নাটকে মূলত আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..

👉প্রথমতঃ সমাজে ছেলেমেয়ে যে দুই সমান তার একটা বার্তা দেওয়া ।


👉দ্বিতীয়তঃ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে  সচেতন করা ।


 👉তৃতীয়তঃ মেয়েদের লড়াক্কু  মনোভাব তৈরি করা ।


 আপনারা নিশ্চয় জানেন যে,বাল্য বিবাহ আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ। মেয়ের বয়স 18 বছর না হলে আপনারা কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন  না।বাল্যবিবাহ  শুধু একটি মেয়ের উপর নয়, এটি সমাজ তথা দেশের উপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।তাই এ ব্যাপারে  আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে। 




নাটক: বাল্যবিবাহ

এই নাটকের ভিডিওটি দেখতে চাইলে youtube এর নীচের লিঙ্কটি খুলুন...
👇👇👇

আগুনের পরশমণি গান ও রোদ্দুর রায়

 আগুনের পরশমণি গান ও রোদ্দুর রায় সম্পর্কে একটি ছোট্ট আলোচনা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত গান " আগুনের পরশমণি।"  যে গানের সুর আপামর বাঙালীর হৃদয়ে নব প্রানের সঞ্চার করে, হৃদয়কে  আন্দোলিত করে। 

সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা "আগুনের পরশমণি" গানটি আজ আবার youtube এ শুনলাম।

 সত্যি বলছি গানটি শুনে কি জানি আজকে ভয়ে চমকে উঠেছি।

 বর্তমানে কিছু রবীন্দ্র সংগীতকার  রবীন্দ্র সংগীত চর্চা কে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে ,আপনি একবার রোদ্দুর রায়ের কন্ঠে গাওয়া "আগুনের পরশমণি"গানটি শুনলে আপনার শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত লোম খাঁড়া হয়ে যাবে। আমাদের দেশ স্বাধীন।এখানে স্বাধীন ভাবে সংগীত চর্চা করার অধিকার সবারই আছে। তাই বলে সঙ্গীতকে বিকৃত করে, অশ্লীল মুখভঙ্গি করে গান গাওয়ার বা সেই গানকে youtube এর মত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্রকাশ করার অধিকার কারো থাকা উচিত বলে আমি অন্তত মনে করি নাই। রোদ্দুর রায়, কতবড় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ?? তা আমি জানি নাই। তবুও বলছি, রোদ্দুর রায় যত বড়ই সঙ্গীত শিল্পী হোক বা যত বড়ই মহান মানুষ হোক  এই ভাবে বেসুরে  রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে তিনি সমগ্র সংগীত প্রেমীকে অপমানিত করেছেন।  তিনি সেই বেসুরে গাওয়া " আগুনের পরশমণি" গানটি youtube পোস্ট করে নিজের শিল্পী স্বত্তাকে কতটা মহিমান্বিত করেছেন, তা আমার জানা নেই! সমস্ত সঙ্গীত শিল্পীকেই বলছি, যদি ভালো গান না গাইতে পারেন, ছেড়ে দিন, অন্য কেউ গাইবে। আপনাকে গাইতেই হবে ,এমন কোনো কথা নেই।পারলে ভালো গান করুন, এমন বেসুরে গান গেয়ে সংগীতকে অপমান করবেন না। 

যদি সময় থাকে ,তাহলে একবার "আগুনের পরশমণি" গানটি শুনে দেখতে পারেন। আমি নীচে রোদ্দুর রায়ের কন্ঠে গাওয়া গানের লিঙ্কটি দিলাম। 

দেখুন....


https://youtu.be/0klvL_aVu98


বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

যে কথা হয়নি বলা

আমার জীবনের প্রথম কবিতা সংকলনের নাম 


 " যে কথা হয়নি বলা। "

 এটি বেদুঈন পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এই কবিতা সংকলন টি কেউ ডাউনলোড করতে চাইলে নীচের লিঙ্কটি ক্লিক করে খুব সহজেই করতে পারবেন। 
👇👇👇👇


যেকথা হয়নি বলা



ক্ষুধার্ত


বন্দুকের নলেই জন্মে সন্ত্রাস,
সন্ত্রাসের ধংস বন্দুকের বাট।

রক্তেই লুকিয়ে আছে জীবন ,
কঙ্কালে জমা থাকে রক্তের দাগ।

তুমি ক্ষুধার্ত, বুলেট দাও পেটে,
ক্ষমা নেই,প্রাপ্য  অধিকারে,

পশুরাজ শিখেছে ঘাস খেতে,
বুকের অনল জ্বলছে নীরবে।

★★★★★★★★★★★★

Jamal ansary